বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন থেকে বাংলাদেশ পাবে প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও আইনি সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) দেশে তিন বছরের জন্য একটি মিশন চালু করছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান, যাতে তাদের দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালনে সক্ষম হয়—তাও নিশ্চিত করতে চায় জাতিসংঘ।

সরকারি সূত্র জানায়, এই উদ্যোগটি সরকারের সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জাতিসংঘের এই মিশনের কার্যক্রম দেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে পরিচালিত হবে। প্রেস উইং বলেছে, “আমরা বুঝি—বাংলাদেশের জনগণের কিছু অংশ জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার ভাবাদর্শ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের সমাজ গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় শিকড়সম্পন্ন। তাই যে কোনো আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন এই মূল্যবোধকে সম্মান করে—সেটাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

এই প্রেক্ষাপটে বলা হয়, মিশনটি কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। বরং এটি অতীতে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ মিশন কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেশটির সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিবেশকে পূর্ণ সম্মান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, সরকার এই সমঝোতা স্মারককে সার্বভৌম দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করবে এবং যদি কখনো মনে করে এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী, তবে স্বাধীনভাবে এই চুক্তি থেকে সরে আসার অধিকার সংরক্ষণ করবে।

এছাড়া বলা হয়, “যদি পূর্ববর্তী শাসনামলে এ ধরনের একটি জাতিসংঘ মিশন সক্রিয় থাকত, তাহলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রকাশ্য সহিংসতার অনেক ঘটনাই তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হতো। তাই আজকের মানবাধিকার সংরক্ষণ শুধুই আদর্শের বুলি নয়—এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ