রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিন দলের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

অনলাইন ডেস্কঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৩টায় বিএনপির সঙ্গে বৈঠক শুরু হবে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় জামায়াতের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এর আগে সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার আগের দিন মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় বিক্ষোভের পর দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এরপর টানা দুই দিনে আরও ২৫টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. ইউনূস।

গত বছরে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগষ্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন ড. ইউনূস। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেই সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তিনি। গত এক বছরে বিএনপি ও জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচবার করে বৈঠক করেছে।

এদিকে, শুক্রবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পুলিশের লাঠিচার্জ ও সেনা সদস্যদের মারধরে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং নাকের হাড় ভেঙে যায়। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে দলগুলোকে আলোচনায় ডাকলেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পর অন্য দলগুলোকেও আলোচনায় ডাকা হতে পারে।

সরকারের এক বিবৃতিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকার বারবার জানিয়েছে। তবে জুলাই সনদ এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে। কোনো শক্তি নেই এটা প্রতিহত করার।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, “আল্লাহ ছাড়া ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।”

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, তাঁরাও বৈঠকে অংশ নেবেন। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচনের সময় নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ভোট হতে হবে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে। জামায়াতই প্রথম ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এটি জনগণের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র, বাধা কিংবা প্রচেষ্টা সরকার ও গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ