বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়তে প্রধান উপদেষ্টার ৬ প্রস্তাবনা

পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক 

রোম, ইতালি – ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারে ছয়টি প্রস্তাবনা পেশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খাদ্য ফোরামের সমাবেশে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ক্ষুধা অভাব আমাদের তৈরি অর্থনৈতিক কাঠামোর ব্যর্থতার ফল। এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্ভাগ্য নয়। আমরা চাইলে ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পারি।”

তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নির্মূলের জন্য তার ছয়টি প্রস্তাবনায় মূলত তুলে ধরেছেন:

  1. ক্ষুধা ও সংঘাতের চক্র ভাঙা: যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, সংলাপ শুরু করতে হবে এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
  2. এসডিজি ও জলবায়ু অঙ্গীকার পূরণ: দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
  3. আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক গঠন: সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ও ধাক্কা মোকাবেলায় সক্ষম করতে।
  4. স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি: বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
  5. বৈশ্বিক বাণিজ্যসহায়ক ব্যবস্থা: খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় রফতানি নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করতে হবে।
  6. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে প্রবেশাধিকার: গ্লোবাল সাউথ ও গ্রামীণ যুবসমাজের ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ, আয়তনে ইতালির অর্ধেক হলেও আমরা ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে খাওয়াই, পাশাপাশি ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছি। আমরা ধান, শাকসবজি ও মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান মুনাফাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কোটি কোটি মানুষকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। তাই আমাদের নতুন ধরনের ব্যবসা চালু করতে হবে—সামাজিক ব্যবসা, যা ব্যক্তিগত মুনাফা নয়, সমস্যা সমাধানে নিবেদিত।

তিনি তার প্রস্তাবিত ‘থ্রি জিরো ওয়ার্ল্ড’ এর লক্ষ্যও তুলে ধরেন:

  • জিরো ওয়েলথ কনসেনট্রেশন: সম্পদ বিকেন্দ্রীকরণ, দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব।
  • জিরো আনএমপ্লয়মেন্ট: সবার জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ।
  • জিরো নেট কার্বন ইমিশনস: জলবায়ু রক্ষা।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়েছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন। সামাজিক ব্যবসা বাস্তব উদাহরণ হিসেবে প্রমাণ করেছে, মানুষ ও সমাজকে ক্ষমতায়িত করা সম্ভব।”

তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজকের যুবসমাজ আগের মতো নয়। তারা সৃজনশীল এবং হাতে এমন প্রযুক্তি আছে যা কল্পনা করা যেতো না। তাদের সহায়তায় সামাজিক ব্যবসা এবং উদ্যোক্তাবান্ধব আইনি ও আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ