শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নির্বাচনের সময় ভুয়া খবর প্রচারে জেল-জরিমানা

পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সময়ে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি জারি করা ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (আরপিও)-এ নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে।

সংশোধিত আরপিওতে ৭৩(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—মনোনয়ন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়কে নির্বাচনি সময় হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সময়ে কেউ যদি জেনে-বুঝে কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন কমিশনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে, কিংবা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত বা নির্বাচনি পরিবেশ ব্যাহত করার অভিপ্রায়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য কোনো কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, বিতরণ বা প্রচার করেন, তবে তা “দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ” হিসেবে গণ্য হবে।

এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে আরপিও ১৯৭২-এর ৭৩ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন ধারায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরঞ্জাম, স্বয়ংক্রিয় বট, ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা সিনথেটিক মিডিয়া ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টকেও এই অপরাধের আওতায় আনা হবে।

আইন অনুযায়ী, ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যদি কেবল কোনো ব্যক্তিগত প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য না করেও, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বা জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়—তবুও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি আইন সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনি তথ্যযুদ্ধ ও ডিজিটাল বিভ্রান্তি রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি হলো, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ