সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, পরবর্তী সরকারের কোনো পদে থাকব না : প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

অনলাইন ডেস্কঃ 

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজে একটি নিবন্ধ লিখেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের কোনো পদেই তিনি থাকবেন না।

ড. ইউনূস লিখেছেন, “আমি স্পষ্ট করেছি: জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে হবে। এরপর যে সরকার আসবে সেখানে নির্বাচিত বা নিযুক্ত কোনো পদে আমি থাকব না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা। যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের সামনে তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারবে। আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো—সব বৈধ ভোটার, প্রবাসে থাকা নাগরিকসহ, যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।”

গণআন্দোলন থেকে অন্তর্বর্তী সরকার

নিবন্ধে ড. ইউনূস স্মরণ করেছেন গত বছরের আগস্টে গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট। তিনি লিখেছেন, “এক বছর আগে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সমাজের সব স্তরের মানুষের সমর্থনে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। সেই শূন্যতায় ছাত্রনেতারা আমাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে আহ্বান জানায়। শুরুতে আমি রাজি হইনি। কিন্তু তরুণদের আত্মত্যাগের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করি।”

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সুশীল সমাজের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।

সংস্কার ও পুনর্গঠন

ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে অর্থনীতি পুনর্গঠন, নির্বাচন আয়োজন এবং লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারে মনোনিবেশ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সাবেক সরকার বছরে ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছে।

এছাড়া গণআন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং প্রশাসনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, যা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি জানান।

সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রস্তাব

নিবন্ধে ড. ইউনূস আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিস্তৃত সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সাংবিধানিক সংশোধনী। এর লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশ যেন আর কখনো স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে না যায়।

শেষে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ যদি এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয় যেখানে সব মানুষ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তবে তা হবে লাখো মানুষের দৃঢ়তা, কল্পনা ও সাহসের ফল।”

সূত্র: ডেসারেট নিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ