শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় এনসিপির সমাবেশে দফায় দফায় মারামারি

স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে শহীদ টিটু মিলনায়তন চত্বরে (পৌর পার্ক) অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সারজিস আলম এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। সমাবেশ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি পক্ষ মিছিল নিয়ে মঞ্চের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় তারা সারজিস আলমের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। মঞ্চে বসে থাকা সারজিসের সমর্থকরা এ দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ হন এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। দ্রুতই তা মারামারিতে রূপ নেয়।
সমাবেশ চলাকালীন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা একের পর এক বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল ইসলাম ও সাদিয়া ফারজানা। প্রত্যেকেই সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মূল অতিথি হিসেবে সারজিস আলম প্রায় চার মিনিট বক্তব্য দেন, এরপর পরিস্থিতির অবনতি দেখে তিনি দ্রুত মঞ্চ ত্যাগ করেন।
সমাবেশস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও সংঘর্ষ ঠেকাতে প্রথম দিকে তারা নিরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন বলেও জানা যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঈনুদ্দিন জানান, সারজিস আলম মঞ্চে উঠার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এনসিপিরই একটি অংশ স্লোগান দিতে শুরু করে। অপর পক্ষ এতে বাধা দিলে তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
ঘটনা প্রসঙ্গে এনসিপির বগুড়া জেলা সংগঠক আহমেদ সাব্বির বলেন, “এটি ছিল আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি। কিছু বহিষ্কৃত নেতা ও তাদের অনুসারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আসে। সারজিস আলমের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে তারা।” তিনি আরও জানান, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার পর তাদের প্রতিহত করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং সমাবেশ অব্যাহত রাখা হয়।
সমাবেশ শেষে ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করো’ দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের সাতমাথা এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে পুলিশ সদস্যদের কড়া নিরাপত্তা লক্ষ্য করা যায়।
এই ঘটনার মাধ্যমে এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঐক্যের অভাব এনসিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ