অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না বলে জানিয়েছেন তার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের ক্ষমতার প্রয়োজন না থাকলেও দেশের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য তিনি অপরিহার্য।
তৈয়্যব জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেটি তার পদত্যাগের সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ঘটে। তবে পরদিনই বিশেষ সহকারী স্পষ্ট করে দেন, পদত্যাগের প্রশ্নই নেই।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, সরকারের কাজের গতি বাড়াতে হবে, উপদেষ্টাদের সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে এবং অগ্রগতি জনগণের সামনে দৃশ্যমান করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি প্রমাণ করতে হবে যে, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সম্মতিতে ক্ষমতায় আসা ড. ইউনূস সফল হয়েছেন।
তৈয়্যব আরও বলেন, সরকারের উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ শুরু করা, যাতে মতবিনিময়ের একটি নিয়মিত চর্চা গড়ে ওঠে। সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। সেনাবাহিনীকে যথাযোগ্য সম্মান দেখিয়ে আস্থায় রাখতে হবে, তবে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের পুনর্বাসনের জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি আশা করেন, যদিও এটি তার ব্যক্তিগত মত। রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার কেবল ড. ইউনূসেরই। তিনি বলেন, স্যারকে আনার সময়ই বলা হয়েছিল—তার কথা শুনতে হবে।
এছাড়া, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উদযাপন এবং স্বৈরাচারী হাসিনার বিচারের রায় প্রকাশের প্রত্যাশা করেন তৈয়্যব। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, “আমরা হারবো না, আমাদের হারানো যাবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, প্রফেসর ইউনূস জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”








