নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। ১৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই ক্ষমতা ১৪ জুলাই থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’-এর ১২(১) ও ১৭ ধারার অধীনে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) প্রেষণে নিযুক্ত ক্যাপ্টেন বা সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারা বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সারাদেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এই ক্ষমতার আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অধীনে অপরাধ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে সর্বশেষ ১৩ মে থেকে এই ক্ষমতার মেয়াদ দুই মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৩ জুলাই। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে আরও এক দফা ৬০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হলো।
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর কমিশন্ড কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদেরও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। শুরুতে ৬০ দিনের জন্য দেওয়া হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সহিংসতা চরমে ওঠে। ১৯ জুলাই সরকার কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। এরপর ৫ আগস্ট থেকে সারাদেশে পুলিশের কর্মবিরতি শুরু হয়, যার ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে।
এমন পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়, যা এখন পর্যন্ত দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। আজকের প্রজ্ঞাপন সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যাতে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী সংবিধান ও আইন অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।








