অনলাইন ডেস্ক:
সুন্দরবনকে সব ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত রাখতে বন বিভাগ, নৌবাহিনী, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, স্থানীয় কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় সুন্দরবন ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজ বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি জানান, “একক বা বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সুসংহত, পরিকল্পিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ।”
সভায় সুন্দরবনকে ঘিরে চলমান প্রকল্প, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্থানীয় জনগণের জীবিকা, বনদস্যুতা, হরিণ শিকার, প্লাস্টিক দূষণ, অগ্নিকাণ্ড, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নৌযান চলাচলের মতো সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি একটি সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সুন্দরবন কেবল একটি বনভূমি নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। সুন্দরবনের সুরক্ষা মানেই দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
উপদেষ্টা আরও জানান, সুন্দরবন সংরক্ষণে বর্তমানে ‘টাইগার রেসপন্স টিম’, ‘ডলফিন টিম’ এবং ‘পেট্রোল ইউনিট’ কাজ করছে। সেইসঙ্গে তিনি সুন্দরবন ইকো-ট্যুরিজম গাইডলাইন ও ভ্রমণ নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ।
সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
সবার অভিন্ন মত, সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস, কার্যকর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা।








