,

হানিট্র্যাপের অভিযোগে দুই বিমানবালার বিরুদ্ধে তদন্ত

পথে প্রান্তরে ডেস্ক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কেবিন ক্রু—খাদিজা সুলতানা শিমু ও এমএসটি মৌরির বিরুদ্ধে ‘হানিট্র্যাপ’ ও অর্থ ও উপহার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিমান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। হানিট্র্যাপ বা ‘মধু ফাঁদ’ মূলত এমন একটি প্রতারণার পদ্ধতি যেখানে কাউকে প্রেম বা সখ্যতার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ, উপহার বা সুবিধা আদায় করা হয়। অভিযোগকারীরা জানান, শিমু ও মৌরি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ অর্থ ও দামী উপহার হাতিয়ে নিয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র এস এম রওশন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমানে কেউ অপরাধ করলে কোনো ছাড় নেই।”

দুই বিমানবালার ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল ঘনিষ্ঠ। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তারা নিয়মিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতেন। এ সময় তারা তাদের সখ্যতার ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা ও উপহার হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছেন।

মৌরির বিরুদ্ধে কাতার প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাতারের একটি হোটেলে পরিচিত হন তিনি। তার সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান দেখে মৌরি কমিটেড রিলেশনে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১৬ অক্টোবর কাতারে ফোন করে তাকে হোটেল লবিতে ডেকে নিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ব্যবসায়ী সরাসরি জানান যে তিনি বিয়ের জন্য পাত্রী চাই, চাকরিজীবী কাউকে নয়। মৌরি সেই শর্তে রাজি হন এবং আশ্বস্ত করেন যে বিয়ে হলে চাকরি ছেড়ে দেবেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে শপিং, ভ্রমণ ও উপহার আদায় করতে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে মৌরি তার আরেক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ব্যবসায়ী জানান, মৌরি তাকে মানসিকভাবে উত্তেজিত করতো এবং কথোপকথন রেকর্ড করতো। এই প্রক্রিয়ায় সে তার আর্থিক সুবিধা আদায় করতো।

অন্যদিকে, শিমুর বিরুদ্ধে ঢাকার এক বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর ১১ মাসের সম্পর্কের মধ্যে শিমু তার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিমানবালাদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শিমু রাজি হননি। তবে মৌরি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “আমি তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।”

উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভির আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা মিলেছে। তবে সার্বিক বিষয় এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, নৈতিক স্ফলনজনিত কারণে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিমু ও মৌরির চাকরিচ্যুতির সম্ভাবনা রয়েছে। এস এম রওশন কবীর আরও বলেন, “অপরাধ প্রমাণিত হলে বিমানে কেউ ছাড় পাবে না। তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনার মাধ্যমে বিমানবালাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্বের ওপর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণার ঘটনা সমাজে আস্থা ক্ষুণ্ণ করে এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগে নগদ অর্থ ও উপহার হস্তান্তরের সময়কাল, তার পরবর্তী আচরণ ও প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন। বিমান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং সকল তথ্য যাচাই করে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ