,

আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে কে বা কারা উৎসাহ দিচ্ছে

আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে কে বা কারা উৎসাহ দিচ্ছে

গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর দলের নেতাকর্মীরা ফের রাজপথে ঝটিকা মিছিল করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে জড়ো হয়ে প্রকাশ্য সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন— কে বা কারা আওয়ামী লীগকে গোপনে মদদ দিচ্ছে?

প্রাথমিকভাবে পুলিশের কিছু অংশ, সিভিল প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দিকেই উঠছে সন্দেহের আঙুল। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের ভেতর থাকা আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিরাই দলটিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দিচ্ছে।

একাংশের মত, রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তিকে ঠেকাতে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে যেসব মহল কাজ করছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে পর্দার আড়ালে সহযোগিতা করছে। এমনকি দলটিকে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, অতীতের বড় বড় অপরাধের বিচার রাজনীতির জটিলতায় আটকে পড়তে পারে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করলে তারা আবারও রাজনীতির মাঠ দখলের চেষ্টা করবে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, দলটি ততই আগ্রাসী হয়ে উঠবে। তারা মনে করেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন সরকারকে ব্যর্থ করে তোলার চেষ্টা করবে। এর পেছনে দেশি-বিদেশি একাধিক মহল জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে যেদিন থেকে ‘অশিষ্টাচার’ বলা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের মিছিল বাড়তে শুরু করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তিনি আর শিষ্টাচার মানবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত এখনও আওয়ামী লীগের পাশে আছে এবং দলটির নেতাকর্মীদের সাহস ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে আন্দোলনকারী দলগুলোর মধ্যে ভাঙন ধরিয়ে আওয়ামী লীগ কিছুটা সফল হয়েছে। এমনকি বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে ফের মাঠে নামার পথ তৈরি করছে তারা। ফলে আওয়ামী লীগের মিছিল দিন দিন বড় হচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি ভারত গিয়ে আশ্রয় নেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালান, কেউ কেউ আত্মগোপনে যান বা গ্রেফতার হন। এরপর থেকেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জোরালো হয়। একই সঙ্গে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে আজও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে।

গত সপ্তাহে ঢাকায় চারটি জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ শুক্রবার উত্তরখানে একটি মিছিল হয়েছে আতিকুর রহমান মিলনের নেতৃত্বে। শুধু মিছিল নয়, বিএনপি, জামায়াত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠছে তাদের বিরুদ্ধে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও তৎপর হয়েছে। ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিল করতে না পারে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, আমি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী না হলেও যারা ক্ষমতায় থেকে অপকর্ম করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। অন্যদিকে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ মনে করেন, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে দেশবাসীকেই এর খেসারত দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ