বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমাদের কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যেন ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন— “আমাদের, আপনাদের—সকলের কোনো আবেগপ্রবণ বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যেন এদেশে কখনো আর ফ্যাসিবাদ কিংবা চরমপন্থার পুনর্বাসনের সুযোগ না ঘটে। এজন্য সবাইকে হতে হবে আরও সতর্ক, আরও দায়িত্বশীল।”

আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজিত একটি স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সভা ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে শহীদদের স্মরণ ও অংশগ্রহণকারীদের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করার উপলক্ষ্যে আয়োজন করা।

তারেক রহমান বলেন,
“এই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল ইতিহাসগর্ভ। তাদের আত্মত্যাগ, সাহস ও অঙ্গীকার এই দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকবে। আজকের স্মরণসভায় আমি বিনীতভাবে স্মরণ করছি সেই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও এখনো চিকিৎসাধীন সকল সংগ্রামী হৃদয়কে।”

তিনি আরও বলেন,
“যেভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আমরা আজও স্মরণ করি, তাঁদের বীরত্বগাঁথা আমাদের চেতনাকে উজ্জীবিত করে, তেমনি ২০২৪ সালের এই জনতার বিদ্রোহে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, যাঁরা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, তারাও চিরকাল ইতিহাসে বরণীয় হয়ে থাকবেন।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন,
“সেই সময়ের উত্তপ্ত দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে, রাজপথে একটানা দমন-পীড়ন চলছিল। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে বাসিন আখরামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই দিনে ৬ জন শহীদের আত্মদান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা মাফিয়া সরকারের পতনের সঙ্কেত বাজিয়ে দিয়েছিল।”

তিনি বলেন,
“আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে, কিন্তু ১৬ জুলাইয়ের পর তা আর শুধুমাত্র একটি ন্যায্য দাবির আন্দোলন ছিল না। তা রূপ নেয় গণজাগরণে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী চূড়ান্ত প্রতিরোধে।”

“সেদিন যারা রাজপথে ছিল—তাদের অধিকাংশই ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, এদেশের মানুষ কখনো মাথা নত করে না। এই দৃশ্য, এই সাহস আমার রাজনৈতিক বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। তখন থেকেই আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম—মাফিয়া সরকারের পতন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

তারেক রহমান বলেন,
“১৮ জুলাইয়ের পর থেকে আন্দোলনে দল-মত নির্বিশেষে যেভাবে সবাই অংশ নিয়েছে, যেভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, তা নজিরবিহীন। তখন থেকেই বিএনপিসহ সব গণতান্ত্রিক শক্তি এক দফা আন্দোলনকে সামনে রেখে ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“কোটা সংস্কারের ইস্যু কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না। বিএনপির কর্মপরিকল্পনায় অনেক আগে থেকেই এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই, লন্ডনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আমি বলেছিলাম—স্বাধীনতার এত বছর পরেও সরকারি চাকরিতে ৫৬% কোটা রাখা একেবারেই অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য।”

তারেক রহমান আবারও সবাইকে মনে করিয়ে দেন,
“এই আন্দোলন শুধু একটি প্রজন্মের নয়—এটি একটি জাতির বিবেকের আন্দোলন। এই জনতার শক্তিকে সম্মান জানাতে হলে, আমাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত হতে হবে আরও দূরদর্শী, আরও সুবিবেচিত। কারণ, একটিমাত্র ভুল সিদ্ধান্তই হয়তো ফের এনে দিতে পারে সেই ভয়াবহ অন্ধকারকে, যার নাম ফ্যাসিবাদ।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ