কর ও কাস্টমস ক্যাডারের ন্যায্য দাবিনির্ভর চলমান আন্দোলনে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ঘরানার’ একটি গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গোষ্ঠী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়। সাবেক কর কমিশনার একেএম বোরহান উদ্দিন, যিনি আওয়ামী শাসনামলে দলীয় অনুগত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অতীতে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে তিনি সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছেন।
দাবি না মানলে দেশ অচলের হুমকি হেফাজতের
জানা গেছে, কর ও কাস্টমস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআর ভেঙে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের পর সেগুলোর সিনিয়র সচিব পদের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, বিশেষায়িত এই ক্যাডারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে ওই পদগুলো তাদের অধিকার। এজন্য বিসিএস কাস্টমস ক্যাডার ও কর ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন একাধিক জরুরি সভা আয়োজন করেছে।
কর-কাস্টমস
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত বুধবার এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে আওয়ামী ঘরানার কয়েকজন কর্মকর্তা গোপনে ঢুকে আন্দোলনের দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন এবং নেতৃত্ব দখলের অপচেষ্টা চালান। সাধারণ কর্মকর্তারা তাদের প্রতিহত করে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।
কর-কাস্টমস নেতারা জানান, দাবি আদায় ও অফিসিয়াল দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তাদের লক্ষ্য সরকারের রাজস্ব আদায়ে আরও অধিকতর সক্রিয় থাকা এবং একইসঙ্গে নিজেদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা। তারা বলেন, এনবিআরের দায়িত্বশীল পদে যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রশাসন ক্যাডার থেকে যাদের এনবিআরে আনা হয়েছে, তারা বাস্তবতা বুঝতেই ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় নিয়েছেন, যার ফলে নীতিনির্ধারণেও ধীরগতি ছিল।
কর-কাস্টমস আন্দোলনকারীদের মতে, তাদের দাবি যদি বর্তমান সরকারের আমলে না মানা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা আদায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এজন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো অধ্যাদেশে দাবি অন্তর্ভুক্ত না হলে তারা আন্দোলন আরও তীব্রতর করবেন।
অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, সিনিয়র কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এই ‘ফ্যাসিস্ট’ গোষ্ঠীকে আন্দোলনে যুক্ত করেছেন, যার ফলে জুনিয়র ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট। তারা কোনো ধরনের দলাদলি ছাড়াই পেশাদারিত্বের সঙ্গে আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চান এবং শুধুমাত্র ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।








