শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চাঁদার বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ফুঁসে ওঠে : ফয়জুল করীম

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, “আমরা চাঁদার বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ফুঁসে ওঠে। অথচ আমরা কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে কিছু বলি না। আমরা শুধু চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কথা বলি। তাহলে বিএনপি কেন এটাকে নিজেদের গায়ে টেনে নেয়?”

বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন সড়কে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি দুর্নীতিতে দেশকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে দেড়শ’ র বেশি মানুষ হত্যা করেছে। এখনো ক্ষমতায় না গিয়েই একের পর এক বন্ধ করছে। যদি সত্যি ক্ষমতায় যায় তবে বাংলাদেশের কী অবস্থা হবে—তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।”

ফয়জুল করীম বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। দুর্নীতিবাজদের জনগণ আর ভোট দেবে না। তিনি আরও বলেন, “একবার ইসলামকে পরীক্ষা করুন। ওদেরকে বারবার পরীক্ষা করেছেন, বারবার ফেল করেছে। আমাদেরকে এখনো পরীক্ষা করেননি। আল্লাহর কসম, যদি ফেল করি, দ্বিতীয়বার আর পরীক্ষার হলে ঢুকবো না।”

সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা শুধু দুটি জিনিস চায়—ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জানমালের নিরাপত্তা। কোনো জুলুমবাজ বা চাঁদাবাজকে সংখ্যালঘুরা ভোট দেবে না। ইসলামি শাসনব্যবস্থাই পারে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ইসলাম ক্ষমতায় গেলে বরিশালের প্রতিটি মানুষ নিরাপত্তা লাভ করবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ রেদোয়ান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সুজন। এসময় বরিশাল মহানগরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, “গণতন্ত্রের কোন ধারায় আছে কারো সমালোচনা করা যাবে না? ১৯৯১ থেকে ৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি দেশের মানুষকে কী উপহার দিয়েছে, তা জনগণ ভোলেনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপি পাতানো নির্বাচন করেছে। সেটা থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে প্রয়োগ করেছেন। তার আগেই ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ প্রহসনের নির্বাচন করেছে। সেটাই পরে শিখেছে বিএনপি।”

তিনি বলেন, “বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই গাছের দুই ডাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ যা করেছে, ৫ আগস্টের পর বিএনপি তাই করছে। আগে জয় যেভাবে বক্তব্য রাখতো, এখন লন্ডনে বসে তারেক রহমান সেভাবেই বক্তব্য রাখছেন। অর্থাৎ এ দুটি দল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।”

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, “শুধু নির্বাচনের জন্য গণঅভ্যুত্থান হয়নি। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংস্কার হতে হবে। আগামী নির্বাচন অবশ্যই পিআর (PR) পদ্ধতিতে হতে হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ