ব্যুরো চীফ, বরিশাল
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, রাষ্ট্রের নীতি, সরকারের নীতি, আইন-কানুন—সবকিছুতেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থ প্রতিফলিত হতে হবে। কোনো একক মত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ভিন্নমতের মীমাংসা করতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে অনুষ্ঠিত গণসংহতি আন্দোলন জেলার দ্বিতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ এ দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের জীবনে আজও মুক্তি আসেনি।
ভূমিহীনরা ভূমি পায়নি, কৃষকরা ন্যায্য দাম পায় না, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে না। সরকারের নীতি এসব খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “অভ্যুত্থানের পর বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি কাজ করা এখন সময়ের দাবি। আন্দোলনকারী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে ঐক্য রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর মতের ভিন্নতা থাকলে তার মীমাংসা জনগণের ভোটের মাধ্যমেই করতে হবে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য আগামী নির্বাচনকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যরা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভুঁইয়া, কৃষক মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আলিমুল কবীর, যুব ফেডারেশনের সম্পাদক জাহিদ সুজন, ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী প্রমুখ।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বরিশাল জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাকিবুল ইসলাম সাফিন।
সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে সমন্বয়কারী হিসেবে দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু, নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ, সহ-নির্বাহী সমন্বয়কারী মারুফ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা ইয়াসমিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল ইসলাম সাফিন ও রুমা আক্তার, অর্থ সম্পাদক ইয়াসমিন সুলতানা, প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, শিক্ষা গবেষণা ও দপ্তর সম্পাদক হাছিব আহমেদ দায়িত্ব পান।
এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, শ্যামলি আক্তার, আব্দুর রশিদ তালুকদার, হাসিনা বেগম, জাকির তালুকদার, তামান্না আক্তার, নুর জাহান বেগম, মো. রেজাউল করিম, সরোয়ার খলিফা, মো. আরিফ হোসেন ও মো. খায়রুল হোসেনকে সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে।








