শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি 

সংস্কার ও বিচারের পরই একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা

সংস্কার ও বিচারের আগে কোনো নির্বাচন নয়

ঢাকার বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট এলাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে—বিচার ও মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কারের আগে দেশে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা, রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে এনসিপি তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। সমাবেশে বক্তারা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে দলটিকে “ফ্যাসিস্ট ও খুনি” হিসেবে অভিহিত করে নিষিদ্ধের আহ্বান জানান।

জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান তারেক রহমানের

সমাবেশের প্রধান দাবিগুলো

  • আওয়ামী লীগের বিচারের আগে কোনো নির্বাচন নয়

  • গণহত্যা ও দমন-পীড়নের দায়ে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা

  • অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ

  • আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টাকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত

  • ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে পরিচিত প্রতিবাদী শক্তির পক্ষ থেকে প্রতিরোধের ঘোষণা

.
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি

  • তারিকুল ইসলাম (যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক):
    “হাইকোর্ট দেখাবেন না। হাইকোর্ট দেখে জুলাই বিপ্লব হয়নি।”

  • তাজনূভা জাবীন (যুগ্ম আহ্বায়ক):
    “এই বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগ আর কখনো রাজনীতি করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”

  • আতিক মুজাহিদ:
    “আমাদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আওয়ামী লীগ ও হাসিনার দোসররা হুমকি।”

  • হুমায়রা নূর:
    “দিল্লির প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ আর চলবে না।”

  • তাহসীন রিয়াজ:
    “আগামীর রাজনীতি হবে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে ছুড়ে ফেলার রাজনীতি।”

সমাবেশে বক্তৃতা দেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর বাবা, যিনি বলেন—
“আমার ছেলের বুকে ৭০টা গুলি করা হয়েছিল। বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হবে না।”

.

সমাবেশজুড়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের কণ্ঠে মুখর ছিল বিভিন্ন স্লোগান, যেমন:

  • “এই মুহূর্তে দরকার, বিচার আর সংস্কার”

  • “চব্বিশের বাংলায়, আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই”

  • “ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর”

  • “ব্যান করো, ব্যান করো—আওয়ামী লীগ ব্যান করো”

অনিশ্চিত রোহিতদের বাংলাদেশ সফর

এই সমাবেশ স্পষ্টভাবে একটি সংকেত দেয় যে, একটি নির্দিষ্ট অংশের রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচন নয়, বরং ‘সংবিধান ও শাসন সংস্কার’-কে প্রাধান্য দিতে চায়। তাদের ভাষায়, “আগে বিচার, পরে ভোট।” এতে বোঝা যায় যে, সামনের দিনে বাংলাদেশে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসতে চলেছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ‘নির্বাচনের শর্ত’ হিসেবে দলীয় বিচার ও নিষিদ্ধকরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ