শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র: ইস্তাম্বুলজুড়ে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ পত্রিকা লে মান-এ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি কার্টুন ঘিরে তুমুল বিতর্ক ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইস্তাম্বুলজুড়ে। অভিযোগ উঠেছে, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে ওই ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনায় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলি। ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে চারজন কার্টুনিস্টকে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি একে ‘জঘন্য উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় অনুভূতির ওপর স্পষ্ট আঘাত। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কার্টুনটি প্রকাশের পর সোমবার ইস্তাম্বুলের একটি বারে হামলা চালান ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর শহরের তাকসিম মসজিদের সামনেও শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। লে মান পত্রিকা অফিসের সামনেও বিক্ষোভ দেখা যায়, যদিও পুলিশের ব্যারিকেডে তা দমন হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বিতর্কিত কার্টুনটিতে এক মুসলিম ও এক ইহুদি ব্যক্তি হাত মেলাচ্ছেন, পায়ের নিচে বোমা পড়ছে, পিঠে পাখা এবং মাথার ওপর আলোকচ্ছটা। মুসলিম ব্যক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুহাম্মদ’। এ নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কার্টুনটি।

তবে লে মান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক তুনচাই আকগুন দাবি করেছেন, এই কার্টুনে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে চিত্রায়ন করা হয়নি। বরং এখানে ফিলিস্তিনে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম বিশ্বের নিরব ভূমিকার প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মুহাম্মদ’ নামটি এখানে একটি সাধারণ মুসলমান শিশুর প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ফাহরেত্তিন আলতুন বলেছেন, ‘এই কার্টুন আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধে আঘাত হেনেছে।’ বিক্ষোভকারীরা ইসলামি শরিয়া আইনের আলোকে দোষীদের বিচার দাবি করছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত লে মান পত্রিকাটি তুরস্কে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের জন্য পরিচিত। ২০১৫ সালে শার্লি হেবদোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে রক্ষণশীল মহলে পত্রিকাটি বিশেষভাবে সমালোচিত হয়ে উঠেছে। এবারকার বিতর্ক নতুন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ধর্মীয় অনুভূতির সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে তুরস্কে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ