বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং উপদেষ্টা পরিষদের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি ও তাদের জোট সম্প্রতি একাধিক বিভাগীয় সমাবেশ ও কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরছে। বিএনপি বলছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং নিরপেক্ষতার দাবি ম্লান হয়ে যাচ্ছে। শনিবার খুলনায় এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি কখনো এই সরকারকে ঘেরাও করতে হয়, তা হবে জাতির জন্য দুঃখজনক।”
অপরদিকে, সরকারপক্ষ বলছে, দেশের স্থিতিশীলতা ও সংবিধান মেনে নির্বাচন আয়োজনই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা বিরোধীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের কিছু উপদেষ্টার অতিরিক্ত সক্রিয়তা, বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যক্ষ আগ্রহ দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর কিছু এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় রাজনৈতিক কার্যক্রমেও সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, যা আরও হতাশা বাড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে সংলাপ, বিশ্বাস এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।








