নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
মহাকাশে ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে দুটি দানবীয় কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষে তৈরি হলো আরও বিশাল এক কৃষ্ণগহ্বর।
সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা বিশাল ভরের দুটি কৃষ্ণগহ্বরের একীভবনের এই ঘটনা আবিষ্কার করেছেন, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে সংঘটিত হয়েছে। এই মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে একটি আরও বৃহৎ কৃষ্ণগহ্বর—এটি এখন পর্যন্ত মহাকর্ষীয় তরঙ্গের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় কৃষ্ণগহ্বরের সংমিশ্রণ।
বলা হচ্ছে, সূর্যের ভরের প্রায় ১০৩ ও ১৩৭ গুণ বেশি ওজনের দুটি কৃষ্ণগহ্বর বহু আগে থেকে একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছিল। অবশেষে, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের সময় দুপুর ২টার ঠিক আগমুহূর্তে, এই দুটি কৃষ্ণগহ্বর একত্রিত হয়। সংঘর্ষের তরঙ্গ একসঙ্গে ধরা পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও লুইসিয়ানায় অবস্থিত লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (লিগো) এর দুইটি ডিটেক্টরে।
এই ঘটনা এতটাই বিশাল ও তাৎপর্যপূর্ণ যে, কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাভিটি এক্সপ্লোরেশন ইনস্টিটিউটের প্রধান অধ্যাপক মার্ক হ্যানাম বলেন, “এগুলোই মহাবিশ্বের সবচেয়ে সংঘর্ষময় ঘটনা—যা আমরা সরাসরি দেখতে পারি না, কিন্তু এর তরঙ্গ পৃথিবীতে পৌঁছালে তা এতটাই দুর্বল হয় যে, সেগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করাই বড় অর্জন।”
গবেষকদের মতে, এই কৃষ্ণগহ্বর দুটি সংঘর্ষের আগে প্রায় ৪০০,০০০ গুণ বেশি গতিতে ঘূর্ণায়মান ছিল, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের তুলনায় অসামান্য। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের মাধ্যমে প্রায় ৩০০টি কৃষ্ণগহ্বরের সংমিশ্রণ শনাক্ত করেছেন। তবে, এই সাম্প্রতিক আবিষ্কারটিই সবচেয়ে বিশাল বলে মনে করা হচ্ছে—সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া কৃষ্ণগহ্বরটির ভর সূর্যের চেয়ে প্রায় ১৪০ গুণ বেশি।
কৃষ্ণগহ্বর সাধারণত তখনই সৃষ্টি হয় যখন একটি বিশাল নক্ষত্র তার পারমাণবিক জ্বালানি ফুরিয়ে ফেলেছে এবং ভেঙে পড়েছে। এই বিপুল ঘনত্ব বিশিষ্ট বস্তুর মহাকর্ষ এতটাই শক্তিশালী হয় যে, আলোও সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে না।
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনা ও পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন গ্লাসগোতে আয়োজিত জিআর-আমালদি সম্মেলনে। তারা বলছেন, ১৯৯০-এর দশকের আগে মহাবিশ্বকে শুধু তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের মাধ্যমেই পর্যবেক্ষণ করা যেত—যেমন দৃশ্যমান আলো, ইনফ্রারেড বা রেডিও তরঙ্গ। কিন্তু মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর মহাবিশ্বকে নতুনভাবে বোঝার দরজা খুলে গেছে।
এই ধরনের ঘটনা মহাকাশবিজ্ঞানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কৃষ্ণগহ্বরের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী মডেলগুলো এখন গবেষকরা নতুনভাবে পর্যালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








