আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পোল্যান্ডের একটি গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় আবিষ্কৃত হয়েছে ৫৫০০ বছর আগের দুটি প্রাচীন পিরামিডসদৃশ কবর। নিওলিথিক যুগের এই কবরগুলো মিশরের পিরামিডেরও পূর্ববর্তী, যা এ আবিষ্কারকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আবিষ্কৃত স্থাপনাগুলো ইতোমধ্যেই ‘পোলিশ পিরামিড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিটি কাঠামোর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৪ মিটার। বিশাল আকৃতির পাথর দিয়ে নির্মিত প্রতিটি কবরের ওজন ১০ টন পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন আদাম মিচকিয়েভিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
গবেষক দল জানায়, কবরগুলো এককভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি কঙ্কালকে পূর্ব দিকে পা রেখে পিঠের ওপর শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। কবরের সঙ্গে ছিল প্রাচীন পাথরের কুঠার, মাটির পাত্র, এমনকি আফিম সংরক্ষণের পাত্রের মতো বিভিন্ন সামগ্রী, যা ওই সময়কার সংস্কৃতি ও জীবনের ইঙ্গিত বহন করে।
এই স্থাপনাগুলো ‘ফানেলবিকার সংস্কৃতি’র অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যারা ছিল এক ধরনের কৃষিনির্ভর প্রাচীন সমাজ। তারা শুধু কৃষিকাজেই নয়, স্থাপত্য নির্মাণ ও সমাধি তৈরিতেও দক্ষ ছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কবরগুলোর দিকনির্দেশ সূর্যের গতি কিংবা তারকার অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটি প্রাচীন মানুষদের জ্যোতির্বিজ্ঞানে দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়।
আঞ্চলিক প্রত্নসংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা আরতুর গোলিস জানান, সাধারণত এই ধরনের বিশাল কবর দলের নেতা, পুরোহিত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য নির্মিত হতো। প্রতিটি প্রজন্ম তাদের নিজস্ব ‘মেগালিথ’ তৈরি করত।
বিজ্ঞানীদের মতে, এ আবিষ্কার ইউরোপের প্রাচীন সমাজব্যবস্থা, ধর্ম ও স্থাপত্য নিয়ে বিদ্যমান ধারণায় নতুন আলো ফেলেছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কবর হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়েছে, তবে বনাঞ্চলের নিচে সংরক্ষিত কবরগুলোই ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।
এই আবিষ্কার নিওলিথিক ইউরোপের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার পথও উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।








