শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রোহিঙ্গা সংকট: জেনেভায় তারেকের এ টু জেড বিশ্লেষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

রোববার (৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, ১৬ জুন শুরু হওয়া মানবাধিকার পরিষদের এই অধিবেশন চলবে ৯ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত। অধিবেশনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। রেজ্যুলেশনটি উত্থাপন করেছে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC)।

রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, গত দেড় বছরে নতুন করে ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিটি অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি পরিষদকে আশ্বস্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও ‘আরাকান আর্মি’র মধ্যকার চলমান সংঘাত মানবিক সহায়তার পথ রুদ্ধ করছে এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে জানানো হয়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা, নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে শুধু ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের পরবর্তী সাধারণ অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে একটি সময়সীমা নির্ধারিত সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গৃহীত রেজ্যুলেশনে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্রমশ হ্রাস পাওয়া মানবিক সহায়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

রেজ্যুলেশনে রাখাইনে বিচারের অভাব এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি দূর করতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে রাখাইনে অব্যাহত ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নেওয়া উদ্যোগগুলোর স্বীকৃতিও এ রেজ্যুলেশনে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই রেজ্যুলেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা ও অঙ্গীকার আরও একবার শক্তভাবে তুলে ধরা হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ