আফসার রেজা, ক্রীড়া প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা।
এই দুদলের মধ্যকার দ্বৈরথ এখন আর কেবল ম্যাচ জেতা-হারার হিসাব নয়। এটা যেন ধৈর্য, পরিকল্পনা আর মনের জোরের পরীক্ষা। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার, সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে। আগেরবার ওয়ানডে সিরিজে এমন সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, এবার টি-টোয়েন্টিতে।
সিরিজের শুরুটা হয়েছিল কিছুটা মন খারাপ করা ছন্দে। পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে প্রত্যাশার কাছাকাছি পৌঁছাতেও পারেনি দল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই সিরিজও বুঝি নির্বাসিত হবে হতাশার অন্ধকারে।
কিন্তু ক্রিকেট তো সবসময় একরৈখিক গল্প লিখে না।
ডাম্বুলায় যেন বদলে গেল চিত্রনাট্য। বদলে গেল শরীরী ভাষা।
লিটন দাস, যিনি বেশ কিছুদিন ধরে খুঁজে ফিরছিলেন নিজের ব্যাটিং ছন্দ, হঠাৎ যেন ফিরে পেলেন সেই পুরনো রূপ। ৫০ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ছিল ১টি চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কার ছাপ। আর শামীম হোসেন পাটোয়ারী? তার ২৭ বলে ৪৮ রানের আগ্রাসী ইনিংসটাই যেন লঙ্কান বোলিংয়ের ভিত কাঁপিয়ে দিল।
বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছিল ১৭৭ রানে। এরপর যা হলো, তা বল হাতে একগুচ্ছ আগুন ছোড়ার গল্প। রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন—তিন বোলার তিন প্রান্ত থেকে আঘাত করে শেষ করে দিল শ্রীলঙ্কার ইনিংস। মাত্র ৯৪ রানে অলআউট—বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে লঙ্কানদের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড।
এই জয় শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা আত্মবিশ্বাসের মাটি শক্ত করার মুহূর্ত।
সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, ডাম্বুলার জয় দলকে এনে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ টাইগাররা নামবে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। যে মাঠে অতীতে বাংলাদেশের সাফল্য মেলে ধরেছে দলটির ভবিষ্যতেরও সম্ভাবনা।
এই প্রেমাদাসায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি খেলেছে সাতটি—তিনটি ভারতের বিপক্ষে, চারটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। লঙ্কানদের বিপক্ষে এই চার ম্যাচের তিনটিতেই জয় বাংলাদেশের। পরিসংখ্যান বলছে, টাইগাররা প্রেমাদাসায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
তবুও ক্রিকেট কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়। ক্রিকেট অনেকটা আবেগেরও খেলা। যারা চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারাই জয়ী হয়। আর যারা নিজস্ব পরিকল্পনা থেকে বিচ্যুতি ঘটায়, তারা হারিয়ে যায় নির্জনতার ভিড়ে।
তাই আজকের ম্যাচের গুরুত্ব ঠিক মাঠে প্রতিপক্ষ হারানোর চেয়েও বড়। এটা একটি সফরের উপসংহার। এটিই বলে দেবে, বাংলাদেশ এই সফরে কেবল মাঝপথে জ্বলে ওঠা এক ঝলক আলো হয়ে থাকল, নাকি পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক সম্ভাবনার রঙ হয়ে ফিরবে।
লিটনের ফর্মে ফেরা যেমন বড় স্বস্তির, তেমনি রিশাদের স্পিনেও মিলেছে স্বস্তি। দীর্ঘ সাত মাস পর তার এমন পারফরম্যান্স আবারও জানান দিচ্ছে—এই তরুণদের দিয়ে অনেক কিছুই সম্ভব।
তবে শ্রীলঙ্কাও নিশ্চয়ই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। নিজেদের মাঠে, নিজেদের দর্শকের সামনে তারা চাইবে সিরিজ জিতে সফরটা নিজেদের করে নিতে।
তাই শেষ ম্যাচটা রীতিমতো রোমাঞ্চের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
এটা আর কেবল খেলার ম্যাচ নয়—এটা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেষ দৃশ্যে কার মুখে থাকবে হাসি, সেই অপেক্ষার গল্প।
প্রেমাদাসার floodlight-জ্বলা সন্ধ্যায়, বাতাসে হয়তো উড়বে একেকটি ছক্কার গর্জন, বাউন্সারে জমে যাবে নিঃশ্বাস।
সন্ধ্যার শেষে বোর্ডে লেখা থাকবে ফলাফল।
কিন্তু তার আগেই উত্তর খুঁজবে সবাই—
শেষ হাসি কার?
বাংলাদেশ, না শ্রীলঙ্কা?








