,

আজ বাংলাদেশের বাঁচা–মরার ম্যাচ

আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:

ক্রিকেট কখনো কখনো কঠিন অঙ্কের মতো লাগে। বিশেষ করে যখন তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে বসে একটা দল, তখন পরের ম্যাচটা হয়ে দাঁড়ায় সরাসরি বাঁচা–মরার লড়াই। বাংলাদেশের জন্য আজকের ম্যাচ ঠিক তেমনই—সিরিজ বাঁচাতে হলে জিততেই হবে।

ডাম্বুলার বাতাসে আজ চাপের গন্ধ। চাপ শুধু মাঠে নয়, ছড়িয়ে আছে ড্রেসিংরুমেও। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে থেকে খেলতে নামা মানেই একটা শ্বাসরুদ্ধকর বাস্তবতা—হারলেই সিরিজ শেষ।

এমন এক সফর, যা শুরু হয়েছিল কিছুটা আশা নিয়ে। দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় এসেছে বাংলাদেশ। সফরে আছে পরিবারের সঙ্গও। মানে মানসিক চাপ বা হোম সিকনেসের অজুহাত নেই। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, স্পষ্ট হচ্ছে—সব অজুহাত দূরে থাকলেও পারফরম্যান্স যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।

টেস্ট সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজেও ফিরে আসা যায়নি। এখন যদি টি–টোয়েন্টি সিরিজটাও হাতছাড়া হয়, তাহলে এই সফরের ডায়েরিতে কিছু লেখার মতো থাকবে না। থাকবে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস—যেটা অনেক পুরনো, বারবার ফিরে আসা এক পরিচিত সঙ্গী।

প্রথম ম্যাচের শুরুটা কিন্তু বাজে ছিল না। পারভেজ ইমন আর তানজিদ তামিম ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন পাওয়ারপ্লেতে। তখনো মনে হয়েছিল, হয়তো আজ নতুন কিছু হবে। কিন্তু এরপর? লিটন, হৃদয়, শান্তদের ব্যাটে দেখা গেল সেই চিরচেনা থেমে যাওয়ার গল্প। ইনিংসের গতি যেমন হারিয়েছিল, হারিয়েছিল আত্মবিশ্বাসও। শেষ পর্যন্ত যা দাঁড়াল, তা দিয়ে ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখা কঠিন।

আজ তাই সব দায় এসে পড়েছে ব্যাটারদের ঘাড়ে। যারা ভুল করেছে, তাদেরই ফিরিয়ে দিতে হবে স্বস্তি।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা বেশ নির্ভার। জিতেই আত্মবিশ্বাসী। তাঁদের ফিল্ডিং কোচ উপুল চন্দনা সংবাদ সম্মেলনে বলেই দিলেন—প্রথম ম্যাচের চেয়েও উন্নত কিছু দেখতে চায় দল। উইকেট নিয়ে আশাবাদী, দল নিয়ে আরও বেশি।

এই দুই দলের সমীকরণ তাই পরিষ্কার—একদিকে আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে চাপে নুইয়ে যাওয়া কাঁধ।

বাংলাদেশ দলের জন্য আজকের ম্যাচ শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং একটি প্রতিরোধের নাম। অনেকদিন ধরে হার দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া সমর্থকদের জন্য আজকের ম্যাচটি হতে পারে সেই অচেনা হাসির উপলক্ষ।

অথবা, এই ম্যাচের পরও হয়তো কিছুই বদলাবে না। হয়তো আবার সেই পুরনো গল্পের পুনরাবৃত্তি হবে—প্রথমে আশার ঝলক, তারপর ধসে পড়া।

কিন্তু তবুও, খেলা শুরু হলে আমরা আবারও পর্দার সামনে বসে যাব। কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনো আমাদের বিশ্বাস, এখনো আমাদের ভরসা। আর আজ সন্ধ্যার ম্যাচটা… সেটা হয়তো একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে—এই দল এখনো লড়তে জানে তো?

সেই লড়াইটা দেখতে হলে চোখ রাখতে হবে ডাম্বুলার স্কোরবোর্ডে। হয়তো সেখানেই লেখা থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী কদিনের গল্প।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ