,

ইতিহাসের দোরগোড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ

আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:

ইতিহাস গড়ে ফেলতে আর মাত্র একটি ম্যাচ দূরে রিয়াল মাদ্রিদ। আর অর্থ? সেটিও কম কী! চলতি মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচ যেন লস ব্লাঙ্কোদের জন্য একেকটি সোনার খনি হয়ে উঠেছে।

চলমান ক্লাব বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী শনিবার (৫ জুলাই) সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিপক্ষ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তবে শুধু সেমিফাইনালে ওঠাই নয়, এই ম্যাচ মাঠে গড়ালেই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে জাবি আলোনসোর দল।

রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে রিয়াল

ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালটি রিয়ালের চলতি মৌসুমের ৬৭তম ম্যাচ। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড এতোদিন ধরে রেখেছিল দুটি ক্লাব—লিভারপুল (১৯৮৩-৮৪) ও চেলসি (২০১২-১৩)। দুটি দলই খেলেছিল ৬৭টি করে ম্যাচ।

ট্রান্সফার মার্কেটের হিসেব বলছে, রিয়াল মাদ্রিদের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল ২০০১-০২ মৌসুমে, তখন খেলেছিল ৬৬টি ম্যাচ। চলতি মৌসুমে সেই সংখ্যায় ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামলেই রেকর্ড স্পর্শ করবে এবং সেমিফাইনালে উঠলেই এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবে রিয়াল। আর যদি ফাইনালেও ওঠে—তাহলে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে ৬৯-এ, যা ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে অভূতপূর্ব।

স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা জানাচ্ছে, ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে এতটা লম্বা মৌসুম, এত ম্যাচ—এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

মাঠে ফুটবল, ঘরে টাকা

সফলতার সঙ্গে সঙ্গে আসছে বিপুল অর্থ। মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো বড় শিরোপা না থাকলেও আয় ও পারফরম্যান্সে দাপট দেখাচ্ছে আলোনসোর শিষ্যরা। উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ছাড়া কিছু না জিতলেও ক্লাব বিশ্বকাপে সেই শূন্যতা পূরণে আশাবাদী রিয়াল।

এই টুর্নামেন্টে রিয়ালের আয় এর মধ্যেই পেরিয়ে গেছে সব ক্লাবকে। শেষ ষোলোয় জুভেন্টাসকে হারানোর পর রিয়াল পায় ১ কোটি ২১ লাখ ইউরো। অংশগ্রহণের জন্য আরও ৩ কোটি ১৪ লাখ ইউরো তো আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫২ লাখ ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

এর মধ্যে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেই আয় হয়েছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ইউরো।

সামনে আরও বড় অর্থের সম্ভাবনা

এতেও শেষ নয়। সেমিফাইনালে উঠলেই রিয়ালের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে আরও ১ কোটি ৯৪ লাখ ইউরো। ফাইনালে উঠলে হারলেও মিলবে ২ কোটি ৭৭ লাখ ইউরো, আর শিরোপা জিতলে সেই অঙ্ক দাঁড়াবে ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরোতে।

অর্থাৎ কেবল কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের তিন ম্যাচেই রিয়াল খেলবে সম্ভাব্য ৫ কোটি ৬৪ লাখ ইউরো প্রাইজমানির জন্য।

কী নেই এই মৌসুমে?

ম্যাচের সংখ্যা, আয় কিংবা মাঠের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ২০২৪-২৫ মৌসুম যেন ক্লাব ফুটবলের এক নতুন অধ্যায়। শুধু ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোই নয়, এটিও প্রমাণ করছে—শিরোপা থাক বা না থাক, ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বড় সম্পদ।

জাবি আলোনসো কি পারবেন সেই সম্পদকে রূপ দিতে রৌপ্যতরে? সেটা জানার জন্য অপেক্ষা এখন ৫ জুলাইয়ের—ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে রিয়ালের ৬৭তম ম্যাচের। যেটি হতে পারে ইতিহাসের দরজা খোলার চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ