আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:
শুধু একটা জয় নয়, এ যেন এক সৃষ্টির গল্প।
চীনের দাজহুতে দাঁড়িয়ে ১১টি কিশোরী নতুন এক ইতিহাস লিখে ফেলেছে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৮ নারী হকি দল প্রথমবার খেলতে গেছে এশিয়া কাপ, আর প্রথমবারেই উঠে গেছে সেমিফাইনালে। এটা কোনো গল্প না, এটা বাস্তবতা। এ যেন একটা নিঃশব্দ বিস্ফোরণ—যার ধ্বনি হয়তো ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় এখনো কেউ শুনতে পায়নি, কিন্তু ক্রীড়াভূবনের আকাশে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তার রেশ।
দুই দিন আগেই ছেলেরা সেমিফাইনালে উঠেছিল। আর সোমবার (৭ জুলাই) মেয়েরা দেখাল, ‘তারা শুধু পেছনের গল্প নয়, নিজেরাও হতে পারে প্রথম সারির গল্প’।
প্রথম ম্যাচে জাপানের কাছে ১১-০ গোলে হেরে যখন মাঠ ছেড়েছিল মেয়েরা, অনেকেই হয়তো ভেবেছিল—ব্যাস, এখানেই শেষ!
কিন্তু পরের ম্যাচেই উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ওরা প্রমাণ দিল, পরাজয় মানেই হার নয়। তা কেবল প্রস্তুতি, ঘুরে দাঁড়াবার।
আর হংকংয়ের বিপক্ষে তো একেবারে ‘ক্ল্যাসিক’ গল্প। প্রথম দুই কোয়ার্টার গোলশূন্য, উত্তেজনায় ঠোঁট শুকিয়ে আসা ম্যাচ।
৩৪তম মিনিটে কণা আক্তার সেই উত্তেজনায় ঢেলে দিলেন প্রথম গোলের জল। মাঠে তখন কেবল জার্সি পরা একেকটা কিশোরী নয়, তারা তখন একেকজন যোদ্ধা। এরপর আইরিন রিয়া যখন ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন, আর শেষে ৫৭তম মিনিটে অধিনায়ক সারিকা সাফা পেনাল্টি কর্নার থেকে যখন গোল করলেন, তখন হয়তো তাদের চোখেও নিজেরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না—এভাবে ইতিহাস গড়া যায়!
এই জয়টা কেবল একটা দলের নয়, পুরো বাংলাদেশের ক্রীড়া-মননের।
এই কিশোরীরা দেখিয়ে দিয়েছে, সাহস থাকলে, স্বপ্ন থাকলে, প্রথমবার বলেও প্রথম হতে সময় লাগে না। তাদের চোখে ছিল জেদ, পায়ে ছিল সাহস। আর সেই সাহসই এবার ছুঁয়ে গেল এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের চূড়া।
বাংলাদেশ নারী হকির এই ছোট্ট দলটা যেন হয়ে উঠেছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা—যেখানে প্রতিটি নামই লেখা থাকবে গর্বের অক্ষরে।
তাদের দেখে হয়তো আগামী দিনে আরও শত শত কিশোরী হাতে তুলে নেবে হকি স্টিক।
কারণ এই মেয়েরা বলে দিয়েছে—“স্বপ্ন দেখতে হয় বড় করে, আর তা পূরণ করতে হয় সবটুকু উজাড় করে।”
আর এভাবেই কোনো একদিন… ইতিহাসের পাতায় গর্ব করে লেখা থাকবে—“তাদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ নারী হকির নতুন সূর্যোদয়।”








