যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে গোল্ডেন বল গ্রহণ করছেন কোল পালমার (বাঁয়ে)।
ছবি: সংগৃহীত
আফসার রেজা, ক্রীড়া প্রতিবেদক:
রবিবারের বিকেলটা যেন অপেক্ষা করছিল এক তরুণের জন্য। বয়স মাত্র তেইশ, অথচ মাথা ঠান্ডা রাখার দারুণ ক্ষমতা। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আগুন-রোদ আর উত্তপ্ত গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে সেই তরুণ যেন বলেই দিলেন—“বড় ম্যাচ মানেই আমি!”
চেলসি তখন ইউরোপ সেরাদের বধ করে ক্লাব বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রতিপক্ষ পিএসজি, কাগজে-কলমে যাদের তারকা ভরা। কিন্তু মাঠে? মাঠে আলাদা কিছু দেখা গেলো। একটা নাম বারবার উঠে এল—কোল পালমার।
ম্যাচের আট মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল! একটায় প্রথম স্পর্শেই গোলরক্ষককে পরাস্ত করা, আরেকটায় কড়া ডিফেন্ডারদের ভেঙে ফেলা শট। এরপর তৃতীয় গোলেও তার নিখুঁত পাসে বল জড়িয়ে গেলো পিএসজির জালে—স্কোরবোর্ডে চেলসি ৩, পিএসজি ০।
ম্যাচ শেষে যখন ট্রফি নিয়ে চেলসি খেলোয়াড়রা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন পালমারের হাতে আরেকটা পুরস্কার—গোল্ডেন বল, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। ৬ ম্যাচে ৩ গোল, ২ অ্যাসিস্ট—সংখ্যার বাইরে গিয়ে তার পারফরম্যান্সে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
“আমি ফাইনাল পছন্দ করি। এ রকম ম্যাচে খেলার স্বাদই আলাদা,” ম্যাচশেষে ডিএজেডএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন পালমার। যেন গলা কাঁপছে না, বরং সুরে একটু গর্বও—যথার্থ কারণেই।
তার কথায় ছিল আরেকটা লাইন, যা হয়তো চেলসির ড্রেসিংরুমে সবার মুখে ঘুরছে,
“এই জয়টা বিশেষ। কেউ আমাদের নিয়ে আশাবাদী ছিল না। কিন্তু আমরা জানতাম—আমরা পারি।”
পালমার একা নন, কোচ এন্টসো মারেস্কাও বললেন, “তুমি যত বড় খেলোয়াড়ই হও না কেন, জেতা যায় দল নিয়েই। কোল অসাধারণ, তবে আমাদের সবার জন্য গর্বের দিন এটা।”
পালমার যেন এই ছন্দে আগেও বাজিয়েছেন সুর। গত মে মাসে কনফারেন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে জাদুকরি দুটি অ্যাসিস্ট। এখন ক্লাব বিশ্বকাপে আবারও আলো ছড়ানো—তার ফুটবল যেন গল্প হয়ে উঠছে।
তবে গোল্ডেন বুটটা উঠেছে অন্য কারও হাতে। রিয়াল মাদ্রিদের গনসালো গার্সিয়া—২১ বছর বয়সে ৪ গোল করে ছিনিয়ে নিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। সমান সংখ্যক গোল ছিল বেনফিকার দি মারিয়া, ডর্টমুন্ডের গিরাসি আর আল হিলালের মার্কোস লিওনার্দোর। কিন্তু গার্সিয়া এগিয়ে গেলেন একটা অ্যাসিস্ট দিয়ে—খেলাটাই তো টিনের খাঁচায় রাখা যায় না, এখানে ছোট ছোট কৃতিত্বও বদলে দিতে পারে ভাগ্য।
সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোভ, পেয়েছেন চেলসির রবার্ট সানচেজ। আর উদীয়মান তারকা হিসেবে উঠে এসেছে পিএসজির দেজিরে দুয়ের নাম। হয়তো আগামী দিনের পালমার তিনিই হবেন।
আজকের রাতটা চেলসির, আজকের আলোটা কোল পালমারের।
কাল হয়তো কেউ অন্য,
কিন্তু আজ?
আজ গল্পটা কোল পালমারের।








