,

ফ্লুমিনেন্স ২, আল হিলাল ১: গল্পের নায়ক হারকিউলিস

আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:

ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়, ফুটবল একটা অনুভব, একটা গল্প। প্রতিটি ম্যাচের ভেতরেই যেন লুকিয়ে থাকে নাটকীয়তা, আবেগ আর নায়কের উত্থান। কিছু ম্যাচে সেই নায়ক ঠিক নাটকের মতোই আসে, দৃশ্যপটে বদল ঘটিয়ে দিয়ে যায় নিজের নাম। আজ যেমন করলেন ফ্লুমিনেন্সের হারকিউলিস।

ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সৌদি ক্লাব আল হিলালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। তবে স্কোরলাইন দিয়ে এই ম্যাচ বোঝা যাবে না, কারণ আসল গল্পটা লেখা হয়েছে মাঠের ভেতরে, মুহূর্তে মুহূর্তে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে গোল করেন ফ্লুমিনেন্সের মার্টিনেলি। একক প্রচেষ্টা, বলের দখল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশ — সব মিলিয়ে ব্রাজিলীয় স্টাইলে নিখুঁত এক শিল্পকর্ম। তবে গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই সমতায় ফেরে আল হিলাল। মার্কোস লিওনার্দোর গোলে ম্যাচ আবারও শুরুর পথে ফিরে যায়।

(ছবি: গোল করার পর উদযাপন করছেন ফ্লুমিনেন্সের খেলোয়াড় হারকিউলিস)

এমন অবস্থায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে এগিয়ে আসেন হারকিউলিস। প্রথমার্ধের বিরতির পর মাঠে নামানো হয় তাঁকে। সেই সময় কেউ ভাবেননি যে তিনিই হতে যাচ্ছেন ম্যাচের নায়ক। মাঠে নেমেই যেন নিজের দায়িত্বটা বুঝে নেন হারকিউলিস। ৭০তম মিনিটে বল পেলেন ডি-বক্সের সামনে, প্রথম টাচে বল নিয়ন্ত্রণে এনে দ্বিতীয় টাচেই ফিনিশ। নিখুঁত, পরিণত, দায়িত্বশীল।

এই টুর্নামেন্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল। আগের ম্যাচেও বদলি হিসেবে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছিলেন। আজও করলেন।

মার্টিনেলি হলুদ কার্ড পেয়ে সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না। তাই পরের ম্যাচে হারকিউলিস যে শুরুর একাদশে জায়গা পাবেন, সেটি নিশ্চিত ধরেই নেওয়া যায়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, দ্বিতীয়ার্ধে যখন মাঠ থেকে বদলি হিসেবে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিলো তখন হয়তো মার্টিনেলির চোখে কিছুটা অভিমান ছিল। কে জানে, হয়তো তিনি ভাবছিলেন, ‘আমি গোল করলাম, আর আমাকেই উঠিয়ে দিলো!’ কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণ করে দেয়। আজ ঠিক তেমনটাই হলো।

এই টুর্নামেন্ট নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে, মানছি। কিন্তু এই টুর্নামেন্টই মাঝে মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করছে, যেগুলো শুধু খেলায় নয়, মনেও গেঁথে থাকবে অনেকদিন।

শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল—প্রতিটি ধাপেই ফ্লুমিনেন্স ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু খেলার প্রতি দায়বদ্ধতা, সুযোগের সদ্ব্যবহার আর দারুণ পরিকল্পনায় তারা উঠে এল সেমিফাইনালে।

এখন সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—প্যালমেইরাস না চেলসি, যেই আসুক না কেন, ফ্লুমিনেন্স জানে, তাদের দলে একজন আছেন যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে গল্পের হিরো হওয়ার প্রতিশ্রুতি—হারকিউলিস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ