আফসার রেজা, ক্রীড়া প্রতিবেদক:
ফুটবল এক অনিশ্চিত খেলার নাম। কখন যে কী ঘটে, কেউ বলতে পারে না। তবে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ বনাম ভুটানের ম্যাচে যা ঘটল, তা হয়তো কল্পনায়ও আঁকা যায় না। একটি ম্যাচ, কিন্তু দুটি মাঠ! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন—একই ম্যাচ, কিন্তু খেলা হলো দুই ভিন্ন ভেন্যুতে। মাঠ বদলালেও বদলায়নি বাংলাদেশের মেজাজ, বদলায়নি শান্তির গোলের ক্ষুধা।
সকালে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি, থামেনি বেলা গড়িয়েও। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার দৃষ্টিনন্দন ঘাসপট্টি রূপ নেয় কর্দমাক্ত এক পিচ্ছিল কাদামাঠে। তা সত্ত্বেও দুপুরে নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় খেলা। দর্শকরা তখনও জানতেন না, তারা আজ ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছেন।
প্রথমার্ধ শেষ, স্কোরলাইন তখন ১-০। এরপর মাঠ যেন বলল, ‘আর পারছি না।’ মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ল। খেলা বন্ধ। খেলার মাঠ তখন উত্তেজনার জায়গা নয়, হয়ে উঠল সিদ্ধান্তের ঘূর্ণিপাক।
প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ম্যাচ কমিশনার আনসার আসিফ ও গ্রাউন্ডসম্যানদের সিদ্ধান্তে বদলাল মঞ্চ। দ্বিতীয়ার্ধ সরিয়ে নেয়া হলো পাশের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে। ঠিক যেন সিনেমার দৃশ্যপট বদল—কিন্তু কাহিনি একই, নায়িকা একটাই—শান্তি।
সন্ধ্যা পৌনে সাতটা। লাইট জ্বলে উঠেছে, ক্যামেরা রেডি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম বাঁশিতে যেন গর্জে উঠল পুরো দল। এবার আর থামার নাম নেই। শান্তি একে একে তিনটি গোল করে বুঝিয়ে দিলেন, মাঠ বদলাতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ছন্দ বদলায় না। পাশে থাকা সতীর্থরাও কম যান না। যুক্ত হলো আরও একটি গোল, ভুটানের জালে মোট চারটি বল। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন ৪-১।
তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা এখন গ্রুপ শীর্ষে। কিন্তু পরিসংখ্যান ছাপিয়ে যা রয়ে যাবে তা হলো এই গল্প। এক ম্যাচ, দুই মাঠ—বিশ্ব ফুটবলে বিরল এক অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ে সবচেয়ে বড় নাম হয়ে থাকবেন শান্তি। যিনি শুধু হ্যাটট্রিকই করলেন না, দলের জয়ে প্রাণ ঢেলে দিলেন।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এই ম্যাচ যেন এক নতুন গল্পের শুরু। মাঠ বদলানো, সময়ের দীর্ঘসূত্রতা—সব ছাপিয়ে উঠে আসা এক দৃঢ়তা, এক আত্মবিশ্বাস। লাল-সবুজের মেয়েরা শুধু ফুটবল খেলেনি, তারা ফুটবল ভালোবেসেছে। আর সেই ভালোবাসায় লেখা হয়ে গেছে এক অদ্ভুত, অভূতপূর্ব ম্যাচের গল্প।
কারণ, গল্পটা মাঠ বদলের ছিল না—গল্পটা ছিল স্বপ্ন বদলানো এক দলের।








