বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লঙ্কানদের ধসিয়ে বড় জয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:

প্রথম ম্যাচ শেষে প্রশ্ন ছিল একটা—বাংলাদেশ আসলেই সিরিজে লড়াই করতে পারবে তো? ডাম্বুলার প্রথম সন্ধ্যাটা যেন প্রশ্নচিহ্নের মতোই বাঁকা ছিল। কিন্তু পরের ম্যাচেই যেন জবাবটা দাঁপিয়ে দিয়ে দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। রোববার রাতে, ডাম্বুলার রাঙগিরি স্টেডিয়ামে যে বাংলাদেশ দলটাকে দেখা গেল, সেটা একেবারেই আলাদা রূপে। দুর্দান্ত বোলিং, ধৈর্যশীল ব্যাটিং আর আগ্রাসী মানসিকতায় ভর করে ৮৩ রানের বড় জয় নিয়ে সমতায় ফিরল টাইগাররা। তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায়।

শুরুর ধাক্কা, কিন্তু হাল ছাড়েনি দল

টস জিতে ব্যাটিং নেয়নি শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিংয়ে পাঠালো বাংলাদেশকে। শুরুতেই এল দুমদাম করে উইকেট পতনের শব্দ। পারভেজ ইমন আর তানজিদ তামিম ফিরে গেলেন যথাক্রমে ০ ও ৫ রান করে। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৭ রান। এমন শুরুর পর যে কোনো দল একটু ধাক্কা খেয়ে বসে। কিন্তু লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় ছিলেন ঠান্ডা মাথায়।

এই দুজনের ৬৯ রানের জুটি শুধু দলের রানের চাকাই ঘোরায়নি, আত্মবিশ্বাসের বার্তাও দিয়েছিল ড্রেসিংরুমে। হৃদয় ছিলেন ছন্দে—২৫ বলে ৩১ রান, যাতে ছিল দুইটি চার আর একটি ছক্কার মার। তবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি।

অফফর্মের তকমা ছিঁড়ে ফেলা এক ইনিংস

লিটন দাসের ওপর অনেক আস্থা ছিল। অনেক সময় এই আস্থার ভারটাই যেন তাকে ব্যাকফুটে নিয়ে যায়। কিন্তু আজ অন্য রূপে দেখা গেল লিটনকে। শুরুর ধৈর্যটাকে রূপ দিলেন পরিণত ব্যাটিংয়ে। ৫০ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা, একটি চার। ছক্কার সংখ্যাই বলে দেয় লিটন কতটা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। শট নির্বাচন ছিল নিখুঁত।

তার ইনিংসের পরে ব্যাটে নামেন শামীম হোসেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৪৮ রানের ইনিংস—যাতে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারের সৌন্দর্য। রানআউটে কাটা না পড়লে ইনিংসটা আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারত।

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত তোলে ১৭৭ রান। টি-টোয়েন্টিতে এই স্কোর মোটেই খারাপ নয়। তবে সেটা বড় জয় হয় তখনই, যখন বোলাররা সমানতালে সাড়া দেয়।

বল হাতে ধস নামানো এক সন্ধ্যা

এই ম্যাচে বাংলাদেশের আসল নায়ক কিন্তু বোলাররাই। শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, সাইফুদ্দিন—তিনজনের একেকটি স্পেল ছিল আগুন ঝরানো। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ এদিন যেন এলোমেলো হয়ে গেল গুটিয়ে পড়া এক বইয়ের পাতার মতো।

রিশাদ তুলে নেন ৩ উইকেট, মাত্র ১৮ রান দিয়ে। শরিফুল আর সাইফুদ্দিন নেন ২টি করে উইকেট, তাঁদের স্পেলে ছিল গতি ও সুইংয়ের বৈচিত্র্য। বাকিরাও ছিলেন সমান কার্যকর। প্রতিটি ওভারে চাপ ছিল, প্রতিটি ডেলিভারিতে ছিল পরিকল্পনার ছাপ।

শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৯৪ রানে। বাংলাদেশের জয়টা দাঁড়ায় ৮৩ রানে—টি-টোয়েন্টিতে যেটা বলার মতো বড় ব্যবধান।

আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম

এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি জয় নয়। এটা আত্মবিশ্বাস ফেরানোর গল্প। প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর দলের ভেতরে যে চাপ অনুভূত হচ্ছিল, সেটা ধুয়ে মুছে গেল দ্বিতীয় ম্যাচের আগ্রাসনে। লিটনের ব্যাটে রানের দেখা পাওয়া, শামীমের ঝড়, রিশাদ-সাইফুদ্দিন-শরিফুলদের বোলিং—সব মিলিয়ে যেন পুরোনো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল বাংলাদেশ।

সিরিজ এখন একটিই ম্যাচের খেলা

তিন ম্যাচের এই সিরিজ এখন দাঁড়িয়ে এক ম্যাচে। যেই ম্যাচ জিতবে, সেই ট্রফি হাতে তুলবে। বাংলাদেশের জন্য এই জয়টা ছিল প্রয়োজন, কারণ প্রথম ম্যাচটা হারের পর প্রশ্ন উঠছিল দলের ব্যাটিং-বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে। কিন্তু আজকে যে বাংলাদেশকে দেখা গেল, সেটা ছিল শৃঙ্খলিত ও আত্মবিশ্বাসী এক ইউনিট।

ডাম্বুলার আলোয় এদিন যেমন উজ্জ্বল ছিল মাঠ, তেমনি উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও। এখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সেই আলো ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ।

আর টাইগাররা যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে ডাম্বুলার মাঠ থেকেই উড়ে আসতে পারে আরেকটি আনন্দবার্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ