সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা গেলেন লিভারপুলের পর্তুগিজ তারকা দিয়াগো জোতা

আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:

এ যেন ভোরবেলার একটা দুঃস্বপ্ন—দিয়েগো জোতা আর নেই। লিভারপুলের হয়ে একটার পর একটা গোল করে যিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, সেই দিয়েগো জোতার হঠাৎ বিদায়ে স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব। যেন হঠাৎ ভোরবেলা ঘুম ভাঙার পর জানা গেল, একটা ভয়ানক দুঃস্বপ্ন সত্যি হয়ে গেছে।

জোতা—পর্তুগিজ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক আশার নাম, লিভারপুল ভক্তদের জন্য এক নির্ভরতার প্রতীক, আর ফুটবল দুনিয়ার জন্য এক অসময়ে থেমে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প।

ঘটনাটি ঘটে স্পেনের জামোরা প্রদেশে, এ–৫২ মহাসড়কে। নিজের ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাকে নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন জোতা। হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়িটি, ছিটকে পড়ে রাস্তার পাশে। মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে যায় দুইটি প্রাণ।

স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা এসে নিশ্চিত করে মৃত্যুর খবরটি। প্রথমে স্থানীয় গণমাধ্যম, তারপর একে একে স্কাই স্পোর্টস, মার্কা, রয়টার্স—সবাই নিশ্চিত করে দিলো, আর কোনো ‘জোতা গোল’ দেখবে না লিভারপুল।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রুতে কারদোসোকে বিয়ে করেছিলেন দিয়েগো। তেমন একটা হইচই করে বিয়ে হয়নি, তবুও ছবিগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তিন সন্তানকে রেখে এভাবে চলে যাবেন জোতা—কারো কল্পনাতেও ছিল না।

ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাও ফুটবলার ছিলেন। খেলতেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব পেনাফিয়েলে। বয়স মাত্র ২৬। দুই ভাইয়ের হাস্যোজ্জ্বল ছবিগুলো এখন পরিণত হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের ট্র্যাজিক অধ্যায়ে।

জোতার পথচলাও ছিল চলচ্চিত্রের মতো। ২০১৪ সালে পাকোস দে ফেরেইরায় পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু, তারপর আতলেতিকো মাদ্রিদে যাওয়া—যেখানে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ধারে খেলেছেন পোর্তো, উলভারহ্যাম্পটন।
উলভসেই নিজেকে প্রমাণ করে জায়গা করে নেন ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলে। সেখানেও তিনি অমূল্য। লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতা, এফএ কাপ জেতা—সবকিছু যেন এখন অতীত।

জাতীয় দলের হয়েও কম কিছু অর্জন নেই। নেশনস লিগে পর্তুগালের দুইটি শিরোপা জয়ী দলের অংশ ছিলেন তিনি।

সবই ছিল ঠিকঠাক। মাঠে যেমন পারফেক্ট গোল দিতেন, মাঠের বাইরেও ছিল সুখের সংসার।
কিন্তু জীবন তো স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চলে না।

আজ লিভারপুলের মেলউড অনুশীলন মাঠ নিশ্চুপ। কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ নীরব, মোহাম্মদ সালাহর চোখে পানি, আর অ্যনফিল্ডের আকাশটা আজ অন্ধকার।

জোতা নেই, তবে তাঁর শেষ ছোঁয়া থেকে যাবে গ্যালারির প্রতিটি করতালিতে, প্রতিটি স্মৃতিতে।

সত্যিই, ফুটবলটা আজ একটু বেশি নিঃসঙ্গ লাগছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ