বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাকিবের গোলে হংকংয়ের মাঠে এক পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ

আফসার রেজা, পথে প্রান্তরে 

ফুটবল মাঠে কখনো কখনো এক পয়েন্টও জয়ের মতোই মনে হয়। মঙ্গলবার রাতে হংকংয়ের কাই তাক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের জন্যও যেন ঠিক তেমনই এক রাত ছিল। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা ম্যাচে রাকিব হোসেনের এক ঝলক উচ্ছ্বাস এনে দিয়েছে—যা অন্তত কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশের এশিয়ান কাপের স্বপ্ন।

হ্যাভিয়ের কাবরেরার দলটি প্রথমার্ধে যেনো কিছুটা কুণ্ঠিত, কিছুটা সতর্ক। শুরুটা ছিল হিসেবি, ঠান্ডা মাথার—প্রথম ১০ মিনিটে দুই দলই খুঁজছিল তাল-লয়। মাঝমাঠে বল ঘুরছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের বক্সে বল পাঠাতে যেন কারওই তাড়াহুড়া নেই।

২০ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ আসে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে সামিত সোম হংকংয়ের ডিফেন্স ভেদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে কৌশলী এক ফাউলে থামিয়ে দেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা। সেখান থেকে হামজার নেওয়া ফ্রি কিক মানব দেওয়ালে আটকে গেলে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের নিস্তব্ধতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

আর সেই নিস্তব্ধতাই যেন ভাঙে বিপরীত দিক থেকে। ৩২ মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তারিক কাজীর এক অমনোযোগী ফাউল ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেয়। জাপানি রেফারি কোনো দেরি না করে বাঁশি বাজান, পেনাল্টি নির্দেশ দেন। অধিনায়ক ম্যাথিউয়ের শটে গোলরক্ষক মিতুল মারমা কিছুই করতে পারেননি। ১-০। হংকং এগিয়ে।

বিরতির আগে সমতা ফেরাতে চেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু আক্রমণভাগের দিশেহারা খেলা সমালোচকদের মনে পুরোনো প্রশ্নটাই ফিরিয়ে এনেছে—আমাদের স্ট্রাইকাররা কি সত্যিই তৈরি?

তবুও দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে দেয় লাল-সবুজের দল। কাবরেরা হয়তো ড্রেসিংরুমে কিছু কথা বলেছেন, যেগুলো মাঠে নেমে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। বাংলাদেশ বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে। ৬৭ ও ৬৯ মিনিটে দুইটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু হংকংয়ের গোলরক্ষকের সেভে হতাশা বাড়ে বাংলাদেশের।

৭৩ মিনিটে আরও একবার হাতছাড়া হয় সহজ সুযোগ। সাদ উদ্দিনের ক্রসে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বলের সংস্পর্শে আনতে পারেননি ফাহমিদুল। দর্শকরা হয়তো তখনই ধরে নিয়েছিলেন—আজকের রাতটি বাংলাদেশের নয়।

কিন্তু ফুটবল এমনই খেলা, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ফাহিমের তীক্ষ্ণ ক্রস, ফাহমিদুলের হেডে বল নামলো প্রতিপক্ষ বক্সে—এবং সেখানেই উপস্থিত রাকিব হোসেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত শটে বল জালে, বাংলাদেশ সমতায়। মুহূর্তেই বদলে গেল আবহ। দূর হংকংয়ে বাংলাদেশের ফুটবলাররা যেন নিজেদের হৃদয়ের রঙটাই মেলে ধরলেন—লাল আর সবুজ।

শেষের কয়েক মিনিটে দুই দলই জয়ের জন্য লড়েছে, কিন্তু গোলপোস্ট যেন হয়ে উঠেছিল ভাগ্যের প্রতীক। কেউই দ্বিতীয়বার জাল খুঁজে পায়নি। ১-১ গোলেই শেষ হলো ম্যাচ।

চার ম্যাচে দুই পয়েন্ট—হিসেবটা হয়তো খুব আশাব্যঞ্জক নয়। কিন্তু এই ড্র বাংলাদেশের জন্য নিছক পরিসংখ্যান নয়, আত্মবিশ্বাসের উৎস। কাগজে-কলমে এখনও বেঁচে আছে এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন। হয়তো ছোট্ট আলো, কিন্তু সেটাই তো পথ দেখায় অন্ধকারের শেষে।

রাতের শেষে স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে ১-১। কিন্তু যারা বাংলাদেশকে চেনে, তারা জানে—এই এক পয়েন্টও কতটা প্রেরণার। কারণ প্রতিটি ড্র, প্রতিটি লড়াই, ভবিষ্যতের জয়গাঁথারই প্রস্তুতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ