শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪০ লাখ গুণ দ্রুতগতির ইন্টারনেট উদ্ভাবন করলো জাপান

অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্বে ইন্টারনেট গতির নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে জাপান। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (এনআইসিটি) জানায়, তারা প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ২৫ হাজার গিগাবাইট (১২৫ টেরাবাইট) ডেটা স্থানান্তরের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

পরীক্ষায় ১ হাজার ১২০ মাইল বা প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরত্বে ডেটা প্রেরণ করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের গড় ব্রডব্যান্ড গতির চেয়ে প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি।

লাইভ সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এত উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ইন্টারনেট আর্কাইভের সম্পূর্ণ তথ্য চার মিনিটেরও কম সময়ে ডাউনলোড করা সম্ভব। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালে, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ডেটা ট্রান্সফার গতির পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ২৫০ গিগাবাইট—নতুন রেকর্ড সেটি থেকে দ্বিগুণেরও বেশি।

গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে নতুন ধরনের অপটিক্যাল ফাইবার, যার ব্যাস মাত্র ০.১২৭ মিলিমিটার। যদিও এটি প্রচলিত একক ফাইবার ক্যাবলের সমান পুরু, তবুও এতে রয়েছে ১৯টি আলাদা চ্যানেল, যেগুলো একইসঙ্গে আলোর মাধ্যমে সংকেত পাঠাতে সক্ষম। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে ডেটা পরিবহনের সময় তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমে এসেছে।

এনআইসিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ৪৮তম অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশন কনফারেন্সে গবেষণাটির বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।

এর আগেও, ২০২৩ সালের মার্চে একই প্রযুক্তিতে ছোট পরিসরে সফল পরীক্ষা চালিয়েছিলেন গবেষকেরা। এবার বৃহত্তর দূরত্বে সফল ডেটা পরিবহন ও সংকেত সংরক্ষণে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ডেটা ২১ বার ঘূর্ণনের পর নির্দিষ্ট রিসিভারে পৌঁছায়, যা পুরো ১ হাজার ১২০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, এই সফলতা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য এবং বিস্তৃত পরিসরের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বৈশ্বিকভাবে বাড়তে থাকা ডেটা চাহিদা মেটাতে এমন প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। পরবর্তী ধাপে তারা এটি টেলিকম খাতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ