নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধস। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। একই সঙ্গে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতটি বসতঘর। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি ঢুকে টেকনাফের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে রান্না করা, চলাফেরা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা বলেন, আমাদের গ্রামের পাশেই সাগর। ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি ঢুকে পড়ে, যা সহজে বের হতে পারে না। ফলে কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি ছিলাম, রান্না করতে পারিনি। কিছু ত্রাণ সহায়তা পেলেও কষ্ট অনেক।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ারী জানান, মঙ্গলবার সকালে হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় পাহাড়ধসে সাতটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে, সেসব জায়গাতেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, তার ইউনিয়নের চার-পাঁচটি গ্রামে তিন থেকে চারশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, যা কিছুটা স্বস্তির।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোজিনা আক্তার বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সরে মায়মুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি ফিরে যাব।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহেসান উদ্দিন জানান, উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। সেন্টমার্টিনে চাল পাঠাতে ট্রলারে মাল তোলা হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ট্রলার দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
তিনি আরও বলেন, মায়মুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়ে থাকা ৫০০ জনকে প্রতিদিন তিনবেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। সোমবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসন সার্বক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছে ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।








