ব্যুরো চীফ, বরিশাল
দলের মধ্যে বিরোধ থাকলে ধানের শীষকে বিজয়ী করা সম্ভব হবে না। তাই সকল বিরোধ ভুলে আগে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য নেতারা যখন মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে লবিং ও তদবিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
আরও পড়ুন:
তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সর্বস্তরের ভোটারদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান আরও বলেছেন—আমাদের নেতা তারেক রহমানকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে হলে দলের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ রাখা যাবে না। সকল বিভেদ ভুলে আগে ধানের শীষকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করতে হবে।
বার্থী ইউনিয়নের বেজগাতী এলাকায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন—বিগত ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি নিজে কখনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখলবাজির সাথে জড়িত ছিলাম না। তাই আমার কোনো সমর্থকদের বিরুদ্ধেও কোনো চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক বিক্রি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।
আমার নেতা তারেক রহমান কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি কিংবা দখলবাজিকে পছন্দ করেন না। যেকারণে ইতোমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে চমক দেখানো প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান আরও বলেছেন—আগামী নির্বাচনে আমি যদি দলীয় মনোনয়ন পাই এবং গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী যদি ভোট দিয়ে আমাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি আমার দ্বারা কারো কোনোদিন ক্ষতি হবে না।
পাশাপাশি আর কোনোদিন হিন্দু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মের কাউকে রামশীল গিয়ে পালিয়ে থাকতে হবে না। কাউকে চাঁদা দিতে হবে না, কারো সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে কেউ নিতে পারবে না।

বিগত পতিত সরকারের সময়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিকবার হামলা ও অসংখ্য মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করা ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান আরও বলেছেন—ধর্ম এবং রাজনীতি আলাদা বিষয়, কারণ ধর্ম হলো ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতা। আর রাজনীতি হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সরকার পরিচালনা সম্পর্কিত বিষয়। তাই কেউ যেন ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল আউয়াল লোকমান, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত তোতা, বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ মাসুদ, গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন হাওলাদার, আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম হীরা সহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।
সবশেষে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান উপস্থিতদের মাঝে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।
একইদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের সাথে অনুরূপ মতবিনিময় সভা করেছেন।








