পাবনা প্রতিনিধি
কক্সবাজার থেকে নিজ জেলা পাবনায় ফেরার পথে স্থানীয় যুবদল ও কৃষকদলের নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মাদক মামলায় আটকের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
২৯ অক্টোবর (বুধবার) সকালে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলায় অভিযুক্ত সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ রানা।
তিনি বলেন, গত আগস্ট মাসের ৩১ তারিখে সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজ খাবার হোটেলের সামনে র্যাব কর্তৃক মাদকবিরোধী অভিযানে তাদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তারা। একটি পক্ষ প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।
আরও পড়ুন:
তারা বলেন, অভিযানে তাদের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে একটি নাটকীয় গল্প সাজানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, “আমরা দুইজনই বিড়ি-সিগারেট পর্যন্ত খাই না। সেখানে মাদক পরিবহনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
তারা বলেন, “বন্ধুরা আনন্দ করতে কক্সবাজার ও টেকনাফে বেড়াতে গিয়েছিলাম। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি আমরা প্রতিষ্ঠিত মৎস্য ব্যবসায়ী। পরিবহনে তল্লাশি করে আমাদের মাদক মামলায় জড়ানো হলো—এটি বুঝে উঠতে পারছি না কীভাবে সম্ভব।”
“কক্সবাজার-টেকনাফ থেকে পাবনাগামী ‘সৌহার্দ্য’ নামক যাত্রীবাহী পরিবহনে বাসায় ফিরছিলাম আমরা। প্রথমে আমাদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে কিনা সেটি জানতে চেয়েছিল র্যাব। পুরো বাস তল্লাশি করেও কিছু পায়নি তারা। পরবর্তীতে সেটি মাদক হয়ে গেলো, আর আমাদের ফাঁসানো হলো।”
মামলায় অভিযুক্তরা বলেন, “এই মিথ্যা মাদক মামলার কারণে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সমাজের মানুষের কাছে ছোট হতে হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে একটি কলঙ্কের দাগ লেগে গেছে আমাদের ওপর। দলীয় পদ-পদবি ও কার্যক্রম থেকে আমাদের বিরত রাখা হয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয়ভাবেই ছোট হচ্ছি পরিবারসহ আমরা।”
তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, “এই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মাদক মামলার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুন।” একই সঙ্গে তারা মামলাটি থেকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৌহার্দ্য পরিবহনের চালক প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাফিজুল ইসলাম, সুপারভাইজার মো. সোহেল আহমেদ, পরিবহনের হেলপার মো. সেলিম হোসেন ও প্রশিক্ষণরত সুপারভাইজার মো. রনি হোসেনসহ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।








