শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজায় আবারো ইসরায়েলি আগ্রাসন, নিহত ৪৩

গাজায় আবারো ইসরায়েলি আগ্রাসন, নিহত ৪৩

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও অন্তত ৪৩ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ৭৭ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

সংস্কার ও বিচারের পরই একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের আকস্মিক আক্রমণের পর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামাসের ওই হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজার ওপর সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা থেমে নেই।

চলমান আগ্রাসনের ফলে গত দেড় বছরে গাজায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই সময়ে মোট ৫২ হাজার ৪১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৯১ জন। হতাহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রমাণ।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনায় যুদ্ধের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই, অর্থাৎ ১৮ মার্চ থেকে পুনরায় গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। দ্বিতীয় দফার এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচ হাজার।

.

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবিরাম সহিংসতা শুধু গাজার জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, বরং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার গাজায় সংঘর্ষ বন্ধ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।

.

গাজার পরিস্থিতি এখন আরও জটিল এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম সংকট, অবকাঠামোর ধ্বংসস্তূপ এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের আর্তনাদ প্রতিদিনই নতুন করে প্রমাণ করছে—এই যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের নয়, একটি পুরো জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের দ্বৈত নীতি এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে। একদিকে মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলা হলেও, অন্যদিকে ইসরায়েলকে সামরিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বহু দেশ। এর ফলে ইসরায়েল নিজেদের কর্মকাণ্ডে দায়বদ্ধতা অনুভব করছে না।

গাজার সাধারণ মানুষ এখন শান্তি ও স্বস্তি চায়। হামলায় স্বজন হারানো এক মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার সন্তান কোনো সন্ত্রাসী ছিল না। সে স্কুলে যেত, স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হওয়ার। ইসরায়েল আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।”

গাজা শহরের আরেকজন বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা স্বাধীনতা চাই। পৃথিবী যেন আমাদের কথাও শুনে।”

গাজায় আবারো ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৪৩ জনের মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যাই নয়, বরং এটি একটি জাতির অসহায়তার প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন সময় এসেছে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার। নইলে এই দমন-পীড়ন ও মৃত্যুর বৃত্ত কখনো থামবে না। মানবিকতার স্বার্থেই গাজার মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারো ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এই আক্রমণে অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাস ও ইসলামিক জিহাদ গ্রুপের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক আবাসিক ভবন, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এবং একটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, রাতে আকস্মিক বোমা বিস্ফোরণে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তুপ থেকে হতাহতদের বের করে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন।

এই হামলার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গাজা উপত্যকায় ক্রমাগত বেসামরিক মানুষের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরায়েলকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলতে হবে।”

তুরস্ক, ইরান, মালয়েশিয়া, এবং কাতারসহ একাধিক মুসলিম দেশ ইসরায়েলের এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েলের এই অমানবিক কার্যক্রম বন্ধ না হলে, বিশ্ব নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে।”

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই হামলাকে “যুদ্ধাপরাধ” আখ্যা দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেন, “ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনী গাজার রক্ষা করতে প্রস্তুত।”

ইসরায়েলি অবরোধে গাজা দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছে। এই নতুন হামলার ফলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল ইতোমধ্যেই রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং নতুন আহতদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় এক চিকিৎসক জানান, “আমাদের ওষুধ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই, অক্সিজেন সংকট। আহত শিশুদের চিকিৎসা দিতে না পেরে আমরা অসহায়।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় আরও সাহায্য পাঠাতে প্রস্তুত তারা, তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে উত্তপ্ত ও অনির্দেশ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের সম্প্রতি উগ্র ডানপন্থী সরকারের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ ও জেরুজালেমে মুসলিম পবিত্র স্থানে অভিযানের প্রেক্ষিতে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থির হয়ে পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ