শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পুতিনের ওপর কেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, কী হতে পারে পরিণাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পুতিন যদি ইউক্রেনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত না হন, তাহলে রাশিয়ার তেলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবেন।

ট্রাম্প, যিনি জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি মস্কোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেও রোববারের বক্তব্যে তার কৌশলে পরিবর্তন দেখা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে পুতিন যে মন্তব্য করেছেন, তা তাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করেছে। ট্রাম্প মনে করেন, জেলেনস্কিকে সরানোর উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও পিছিয়ে দেবে।

তবে তিনি আরও বলেছেন, পুতিন জানেন যে তিনি ক্ষুব্ধ, কিন্তু উভয়ের মধ্যে এখনো সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি আশা করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সমস্যার সমাধান হবে।

পুতিন মনে করেন, জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকার যথাযথভাবে নির্বাচিত হয়নি এবং তিনি ইউক্রেনের বর্তমান প্রশাসনকে সরিয়ে সেখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১৯ সালে জেলেনস্কি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও, ২০২৪ সালের নির্বাচন যুদ্ধের কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুতিন তার প্রশাসনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত থামাবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন এবং গত ২৫ মার্চ, কৃষ্ণসাগরে সামরিক হামলা বন্ধে তিন পক্ষই একমত হয়েছে।

এছাড়া, ৩০ দিনের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছে দুই পক্ষ। কিন্তু বাস্তবে এ চুক্তি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছে উভয় দেশ।

ট্রাম্প বলেছেন, যদি রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তবে দেশটির জ্বালানি রপ্তানির ওপর ‘দ্বিতীয় ধাপের শুল্ক’ আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার পাশাপাশি চীন, ভারত এবং তুরস্কের মতো দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ, এই দেশগুলো রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে।

বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও, ট্রাম্পের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে, এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ