নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) সকাল ৬টায় উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
- আমিন মিয়া (২৮) – সৌদি আরব প্রবাসী, মোহিনীপুর এলাকার বাসিন্দা
- বাশার মিয়া (৩০) – মোহিনীপুর এলাকার বাসিন্দা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি সামসু মিয়া এবং একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুস সালাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এর আগে, গত ৫ মার্চ সামসু মিয়ার লোকজন গ্রামে হামলা চালালে আবদুস সালামের অনুসারীরা গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
আজ ভোরে ঈদ উপলক্ষে আবদুস সালাম গ্রুপের লোকজন গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে সামসু মিয়ার লোকজন তাদের বাধা দেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আমিন ও বাশার নিহত হন।
নিহত আমিনের বাবা খোরশেদ মিয়া বলেন,
‘আমরা দীর্ঘদিন গ্রাম ছাড়া ছিলাম। আজ যখন গ্রামে ফিরতে চেয়েছি, তখন সামসু মেম্বারের লোকজন আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যার পর গলা চেপে ধরে।’
আবদুস সালাম বলেন,
‘আমার অনুসারীরা ছয় মাস ধরে বাড়ি ছাড়া ছিল। আজ যখন তারা ফিরে আসতে চেয়েছিল, তখন প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা করেছে।’
অন্যদিকে, সামসু মেম্বার দাবি করেন,
‘আমাদের পক্ষের তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রায়পুরা থানার ওসি আদিল মাহমুদ জানান,
‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
সংঘর্ষের পর মোহিনীপুর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।