শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

সংস্কার ও নির্বাচন একইসঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

সংস্কার ও নির্বাচন একইসঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার ও নির্বাচন—কোনটি আগে, কোনটি পরে হবে তা নিয়ে বিতর্কের প্রয়োজন নেই। এই দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলতে পারে।

আজ শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই না, যা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো পক্ষকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের নীতি নির্ধারণ করা উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের মূল লক্ষ্য জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার আগে না নির্বাচন আগে—এ ধরনের বিতর্কের প্রয়োজন নেই, কারণ সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

তিনি প্রস্তাব দেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সংস্কার সনদ তৈরি করা যেতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে—সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা এবং এরপর দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল গঠনের কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, যা জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিভিন্ন ইঙ্গিত ও প্রমাণ ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মালিকানা প্রতিফলিত হয় নির্বাচিত সংসদ ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে। কিন্তু সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব কমিয়ে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার পথ সুগম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

গণতান্ত্রিক ঐক্য রক্ষার আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার এবং সংবিধান প্রণয়ন করা উচিত। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।

সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির মতামত

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি আগামীকাল ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবনার বিষয়ে নিজেদের মতামত জমা দেবে।

তিনি বলেন, ‘কমিশনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, তাদের প্রস্তাবের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের মতামতের অনেক মিল রয়েছে। এখনই বিস্তারিত কিছু না বলে, আমরা আগামীকাল আমাদের প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত জানাব।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ