শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ভিনিসিয়ুসের ‘হলুদ রাইফেল’ থেকে ছুটল জয়সূচক গোল

ভিনিসিয়ুসের ‘হলুদ রাইফেল’ থেকে ছুটল জয়সূচক গোল

ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে গড়িয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বদলি হিসেবে লিও ওর্তিজ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জন লুকুমির বিরুদ্ধে কোনো এক অভিযোগ নিয়ে রেফারির দিকে এগিয়ে যান ভিনি। বিপদ আঁচ করতে পেরে সতীর্থ রাফিনিয়া দ্রুত এসে তাঁকে সরিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। কারণ, রেফারির সঙ্গে বিতর্কে জড়ালে বা মাঠ ছাড়তে দেরি করলে হলুদ কার্ড দেখতে হতে পারত, যা হলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরের ম্যাচে খেলতে পারতেন না তিনি।

শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের ত্রাতা ভিনি
তবে ভিনিসিয়ুস এসব ভাবার সুযোগই পাননি। কারণ, কয়েক মুহূর্ত আগেই তিনি দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন। আর সেই গোলেই কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিয়ুস জাতীয় দলের জার্সিতে খুব একটা জ্বলে ওঠেননি, কিন্তু এই ম্যাচে সেটা বদলে গেছে।

গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে নামার আগে ব্রাজিলের হয়ে তাঁর পরিসংখ্যান ছিল ৩৭ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল। অথচ রিয়ালের হয়ে খেললে তিনি যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ! তবে ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা এবার জাতীয় দলের জার্সিতেও সেই পুরনো আগ্রাসী ভিনির দেখা পেলেন। প্রথম গোলেও তাঁর অবদান ছিল, কারণ তিনিই কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ফাউলের শিকার হয়েছিলেন, যার ফলে ব্রাজিল পেনাল্টি পায় এবং রাফিনিয়া গোল করেন। তবে ম্যাচের সেরা মুহূর্ত ছিল ভিনির সেই অসাধারণ গোল।

৯৮ মিনিটে ভিনির ‘রাইফেল শট’
যোগ করা সময়ের ৯ম মিনিটে, সতীর্থের পাস পেয়ে বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন ভিনিসিয়ুস। বল কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার কার্লোস কুয়েস্তোর পায়ে লেগে বাতাসে ভেসে গোলপোস্টে আশ্রয় নেয়। এত দেরিতে ম্যাচজয়ী গোল খুব কমই দেখা যায়, আর সেই মুহূর্তটি ছিল স্নাইপারের নিখুঁত শটের মতো। মনে হলো, যেন ভিনির ডান পা একেবারে রাইফেলের মতো! ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল তাঁর ৩৮ ম্যাচে ষষ্ঠ গোল, যা ভক্তরা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।

জাতীয় দলের হয়ে ভিনি সর্বশেষ গোল করেছিলেন ২০২৪ সালের ২৯ জুন কোপা আমেরিকায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। পাঁচ ম্যাচ পর আবারও গোলের দেখা পেলেন তিনি। আর এই গোলটি ঢুকে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসে। ৯৮ মিনিট ২১ সেকেন্ডে করা এই গোলটি দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সর্বশেষ সময়ের জয়সূচক গোল। সবচেয়ে দেরিতে করা জয়সূচক গোলটি (১০০ মিনিট ৪ সেকেন্ড) ছিল উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল উগার্তের, সেটিও কলম্বিয়ার বিপক্ষে!

ভিনির প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ভিনি বলেন, তাঁর গোলটি দলকে স্বস্তি এনে দিয়েছে, ‘দলের পারফরম্যান্সে আমি খুব খুশি। আমরা জয়টা প্রাপ্য ছিলাম। আমার গোলটাও প্রাপ্য ছিল। জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যতবারই খেলি, মনে হয় প্রথমবার খেলছি।’

রাফিনিয়ার কাছ থেকে গালমন্দ শোনার বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি, ‘আমি আগেই একটা হলুদ কার্ড দেখেছি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো সব সময় কঠিন হয়। দুটো কার্ড দেখলেই নিষেধাজ্ঞা। আমি পরের ম্যাচে খেলতে চাই, বাইরে বসে থাকতে চাই না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ